পুলিশ জানিয়েছে, জাকির নায়েকের পরিবারের সদস্যরা চারটি নিষ্ক্রিয় কোম্পানির পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। ভারতের ইকোনমিক অফেন্স উইং (ইওডাব্লিউ)-এর এক কর্মকর্তা জানান, এসব নিষ্ক্রিয় কোম্পানি গড়ে তোলার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এসব কোম্পানিতে বিদেশি তহবিল একীভূত করার জন্য ছিল কিনা কিংবা কী ধরণের কাজে এসব তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে।
কর্মকর্তা জানান, তহবিলটি বিদেশ থেকে এসেছে এবং তা জাকির নায়েকের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকে স্থানান্তর হয়েছে। ফলে এখন তা বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা) আইনে তদন্ত করা হচ্ছে।
কত বছরে ৬০ কোটি রুপি জাকির নায়েকের ব্যাংকে এসেছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান ওই কর্মকর্তা। এছাড়া নিষ্ক্রিয় কোম্পানিগুলো কবে গড়ে তোলা হয়েছে তাও জানাননি তিনি।
মুম্বাই পুলিশ জঙ্গিবাদে প্ররোচণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে মঙ্গলবার সরকারের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাড়নাভিস বলেন, জঙ্গি সংযোগসহ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ পেয়েছে মুম্বাই পুলিশ।
তিনি জানান, রাজ্য সরকার পুলিশের প্রতিবেদন খতিয়ে দেখছে। বেশ কিছু বিষয় রয়েছে তা কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তিনি প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাকির নায়েক যদি স্বেচ্ছায় ভারতে না ফেরেন তাহলে তাকে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরেকটি যৌথ তদন্ত পরিচালনা করছে। এ তদন্তে জাকির নায়েকের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ)-এর কার্যক্রম ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া তহবিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ভারতের নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনে অন্তত ৫৫ জন ভারতীয় সন্ত্রাসী প্রভাবিত হয়েছিলেন। গত এক দশকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ওই ৫৫ জন। এরইমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় থাকা সন্ত্রাসীদের মধ্যে যেমন ২০০৫ সালে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি রয়েছেন, তেমনি করে সম্প্রতি জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তদন্ত সূত্রের দাবির বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, তালিকার ৫৫ জন লস্কর-ই-তৈয়বা, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন এবং ইসলামিক স্টেট (আইএসে)’র সঙ্গে জড়িত।
অবশ্য, সৌদি আরবে অবস্থানরত অবস্থায় স্কাইপে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাকির নায়েক। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জিহাদের নামে আত্মঘাতী হামলা করে নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা ইসলামে দ্বিতীয় বড় পাপ। এটা ইসলামে নিষিদ্ধ, হারাম।’
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত দুইজন জাকির নায়েককে অনুসরণ করত বলে অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ খবর প্রকাশের পর ভারত তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি জাকির নায়েকের বক্তব্য এবং অর্থের উৎসও তদন্তের আওতায় নিয়েছে ভারত। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/