ডেরা ছাড়তে শুরু করেছেন রাম রহিমের ভক্তরা

ধর্ষণে অভিযুক্ত ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু রাম রহিমের প্রধান ডেরা ছাড়তে শুরু করেছেন তার ভক্তরা। হারিয়ানার সিরসায় অবস্থিত এই ডেরা ঘিরে সেনারা অবস্থান নেওয়ার পর উত্তেজনার মুখে ভক্তরা চলে যেতে শুরু করছেন। ধারণা করা হচ্ছে লক্ষাধিক ভক্ত ডেরা সাচা সৌদাতে অবস্থান করছেন।

_97562232_sirsa

শুক্রবার ভারতের আদালত রাম রহিমকে দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। সোমবার তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাম রহিমের ভক্তরা সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে। কর্তপক্ষের আশঙ্কা সোমবার রায় ঘোষণার পরিস্থিতি আরও সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

এ পর্যন্ত পুলিশ প্রায় আড়াই হাজার ভক্তকে গ্রেফতার করেছে। রায় শোনার জন্য পাঞ্চুকলা শহরে প্রায় ২ লাখ ভক্ত জড়ো হয়েছেন।

নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে সহিংসতা এড়ানোর জন্য। হারিয়ানার রাজ্য সরকার রাম রহিমের সবগুলো ডেরায় তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।

সিরসায় অবস্থিত প্রধান ডেরাটি ১ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠেছে। এতে রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল এবং সিনেমা হল। শনিবার কয়েক হাজার সেনা ও দাঙ্গা পুলিশ ডেরায় প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়। যারা ভেতরে অবস্থান করছেন তাদের ডেরা ছেড়ে যেতে বলা হয়। ভক্তদের চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে রবিবার কারফিউ শিথিল করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভক্তরা ট্রাক ও ট্যাক্সিতে করে ডেরা ছাড়ছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন তারা রোহতাক শহরের দিকে যাচ্ছেন। এখানেই রাম রহিমকে রাখা হয়েছে। অন্যরা জানিয়েছেন তারা বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। কড়া নিরাপত্তায় একজন একজন করে ডেরা থেকে বের হচ্ছেন।

মাসিক রেডিও ভাষণে রবিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সহিংসতায় উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আমাদের দেশে সহিংসতা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয় অথবা সহিংসতা ছড়ায় তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রাম রহিমের ন্যূনতম সাত বছর কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে। যে কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে তা একটি দুর্গে পরিণত হয়েছে। কারাগার থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সাংবাদিকদের অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছে। পুরো রোহতাক শহর পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে ছেয়ে গেছে। শহরগুলোতে কাটাতারের বেড়া দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার দিন সোমবার সবগুলো স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকেই হারিয়ানায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি।