মহারাষ্ট্রে প্রাগৈতিহাসিক ভারতীয় সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার

ভারতের মহারাষ্ট্রে আবিষ্কৃত বিভিন্ন খোদাইচিত্র দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন, এসব চিত্র প্রাগৈতিহাসিক কোনও পশু শিকারি সমাজের নিদর্শন। প্রাচীন সেই সভ্যতার কথা এর আগে কেউ জানত না। তারা হয়তো আফ্রিকা থেকে ভারতে গিয়েছিল। খোদাইচিত্রগুলো প্রস্তরের ওপর সমতল পৃষ্ঠে আঁকা। এগুলো পাওয়া গেছে মূলত রত্নাগিরি ও রাজাপুর এলাকায়। কিছু প্রস্তরচিত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মন্দির, যেখানে স্থানীয়রা ধর্মীয় আচার পালন করেন। ‘মহারাষ্ট্র স্টেট আরকিওলজি ডিপার্টমেন্টের’ পরিচালক তেজস গর্গ বিবিসিকে বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি, এই খোদাইচিত্রগুলো ১০ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৈরি।’

Untitledপ্রত্নতাত্ত্বিক এসব নিদর্শন খুঁজে বের করার পেছনে যে দলটি কাজ করেছে তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সুধীর রিসবুড় এবং মনোজ মারাঠি। তারা সংশ্লিষ্ট স্থানে থাকা খোদাইচিত্রগুলোর কয়েকটির নমুনা স্থানীয় গ্রামের মন্দিরগুলোতে দেখতে পান। সেখান থেকেই আরও এমন নিদর্শন আছে কি না তা খুঁজে বের করার চিন্তা আসে তাদের মাথায়। এসব প্রস্তরচিত্রকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানান লোককথা প্রচলিত থাকার কথা উল্লেখ করে বিবিসি উদ্ধৃত করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক রিশবুড়ের মন্তব্য, ‘আমরা হাজার হাজার কিলোমিটার হেঁটেছি। মানুষ আমাদের বিভিন্ন ছবি পাঠিয়েছে। খোদাইচিত্রগুলো খুঁজে পেতে আমরা এমন কি স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও সহায়তা নিয়েছি। আমরা তাদেরকে বলেছিলাম, তারা যেন তাদের দাদা-দাদিদের কাছে জানতে চায় এমন প্রস্তরচিত্রের উৎস সম্পর্কে। এর ফলাফল হিসেবে আমরা পেয়েছি প্রচুর মূল্যবান তথ্য।’
তারা সবাই মিলে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাতে ওই এলাকার ৫২টি গ্রামে এমন খোদাইচিত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। যদিও এদের মধ্যে মাত্র পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা তাদের গ্রামে এমন খোদাইচিত্রের অস্তিত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। এসব চিত্র খুঁজে পাওয়াটাই শেষ কথা ছিল না প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য। এসব প্রত্নস্থানের তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলো সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে তাদের।

_103477398_29katalshilpসভ্যতাটিকে খ্রিস্টাব্দের হিসেবে চিহ্নিত করা প্রত্নতাত্ত্বিক গর্গ মনে করেন, খোদাইচিত্রগুলো কোনও পশু শিকারি সমাজের আঁকা, যারা কৃষির সঙ্গে পরিচিত ছিল না। তার ভাষ্য, ‘আমরা এসব ছবির মধ্যে কৃষিকাজের কোনও ছবি পাইনি। কিন্তু সেখানে শিকার করা পশু এবং পশুদের দেহাকৃতির সূক্ষ্ম চিত্রায়ন রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, তারা পশু ও সামুদ্রিক প্রাণিদের সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল এবং খাদ্যের জন্য শিকার করা পশুর ওপর নির্ভর করত। পেট্রোগ্লিফগুলোতে যেসব প্রাণীর ছবি দেখা যাচ্ছে সেগুলো পরিচিত। যেমন হাঙর, তিমি, কচ্ছপ ইত্যাদি। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এসবের মধ্যে কেন গণ্ডার ও জলহস্তীর মতো প্রাণীর ছবি রয়েছে। এসব প্রাণী তো ভারতে পাওয়া যায় না। তাহলে কি একসময় এসব প্রাণী ভারতে পাওয়া যেত? না কি খোদাইচিত্রগুলো তৈরি করা প্রাচীন মানুষেরা আফ্রিকা থেকে ভারতে এসেছিল?’