এফ সিক্সটিন বনাম মিগ টোয়েন্টি ওয়ান: যেভাবে ভূপাতিত হন ভারতীয় বৈমানিক

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির দাবি, পাকিস্তানের হাতে আটক অভিনন্দন বর্তমান সেই বৈমানিকদের একজন যারা ২৪টি পাকিস্তানি বিমানকে মোকাবেলা করেছিল। অভিনন্দন একটি পাকিস্তানি এফ সিক্সটিন বিমানের নাগাল পেয়ে সেটি ধ্বংসে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ততক্ষণে অন্যান্য পাকিস্তানি বিমানগুলো তার কাছাকাছি চলে এলেও তিনি তা আমলে নেননি। অপরাপর ভারতীয় বৈমানিকদের দেওয়া সতর্কতা উপেক্ষা করে ওই পাকিস্তানি বিমান ধ্বংস করেন অভিনন্দন। তবে নিজের বিমানটি রক্ষা করতে পারেননি তিনি। পাকিস্তানের এফ সিক্সটিন বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয় তার মিগ টোয়েন্টি ওয়ান। প্যারাস্যুটে করে নামার পর পাকিস্তানিরা তাকে আটক করে।Untitledমঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে। পরদিন বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাশাপাশি ভারতীয় বিমান বাহিনীর বৈমানিক অভিনন্দনকে আটক করে পাকিস্তান। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ওইদিন ভারতীয় বোমারু বিমানকে ধাওয়া করা পাকিস্তানি বিমানবহরকে প্রতিহত করেছেন যে বৈমানিকরা, উইং কমান্ডার অভিনন্দন তাদের একজন।
এনডিটিভির দাবি, বুধবার সকালে ধেয়ে আসা ২৪টি পাকিস্তানি বিমানকে রুখে দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিতদের একজন ছিলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন। তিনি যতক্ষণে একটি পাকিস্তানি এফ সিক্সটিন বিমানের নাগাল পান ততক্ষণে অপরাপর পাকিস্তানি বিমানগুলো তার কাছাকাছি চলে এসেছে। ভারতীয় বিমানগুলোর অন্যান্য বৈমানিকরা তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করেন। তারপরও অভিনন্দন তার লক্ষ্যে আঘাত হানেন।
এনডিটিভির দাবি, অভিনন্দনের ছোড়া আর সেভেন্টি ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি এফ সিক্সটিন বিমানে। বিমানটিত থাকা দুই পাইলট প্রাণরক্ষার্থে বেরিয়ে যান। প্যারাস্যুট নিয়ে তাদের নামতে দেখা যায় ‘লাইন অব কন্ট্রোলের পাকিস্তানি অংশে।’পাকিস্তানি বিমানটি ভূপাতিত হলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ছোড়া ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম রেঞ্জ এয়ার টু এয়ার মিসাইল’ ছোড়া হয়। এর একটির লক্ষ্য অভিনন্দনের বিমান। অপরটি তার উইংম্যানের। শেষ পর্যন্ত অভিনন্দনের বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। প্যারাস্যুটে করে নামার পর পাকিস্তানিরা তাকে আটক করে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় শিকার করে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার এক পর্যায়ে পাকিস্তানের হাতে আটক হন অভিনন্দন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেছে, অভিনন্দনকে শুক্রবার (১ মার্চ) ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে।