কলকাতা বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল

ভারতের ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড় ফণী তাণ্ডব চালিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের আশঙ্কায় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক কৌশিক ভট্টাচার্য্য। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার (৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে। প্রাথমিকভাবে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

AIRPORT_630_630

আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন এক টুইটে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে শুক্রবার (৩ মে) শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে ভুবেনশ্বরের বিজু পাটনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরও সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

পরে এই এই ঘোষণা হালনাগাদ করে বিকাল শুক্রবার ৩টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

তবে এয়ার ইন্ডিয়া ও গোএয়ার তাদের ফ্লাইট বাতিলের যাত্রীদের সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ফ্লাইট নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে ইতিবাচক অনুমোদন পাওয়ার পর ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদেনে বলা হচ্ছে, ফণীর গতিপথে ওড়িশার ১০ হাজার গ্রাম এবং ৫২টা শহর পড়বে। এছাড়া ফণীর কারণে শনিবার পর্যন্ত দেশটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে অন্তত ২৩৩ টি ট্রেন। 

১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঝড়ে প্রায় ১০ হাজার গ্রাম ও ৫০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কলকাতা বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ লাখ মানুষকে। 

ফণীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরি।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে তিনজনের প্রাণহানির কথা বলা হলেও ওড়িশার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যম পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। এছাড়া পুরিতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ছিলো ভারী বৃষ্টি। বাতাসে উপড়ে গেছে বেশ কয়েকটি গাছ। ধ্বংস হয়ে গেছে একাধিক স্থাপনা। পুরীর জগন্নাথ মন্দির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

ওড়িশা থেকে এখন অন্ধ্রপ্রদেশের  কাছাকাছি যাচ্ছে ফণী। ঘূর্ণিঝড়টির  প্রভাবে সেখানেও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে ঝড়ো বাতাস। কর্মকর্তারা জানান,  ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার  বেগ বাতাসে উপড়ে গেছে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি।