করোনা আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গে পোল্ট্রি শিল্পে ধস, ক্ষতি ৪৫০ কোটি টাকা

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত সরকার। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এই আতঙ্কের ছাপ পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পোল্ট্রি খাতে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও সোমবার তা নেমে এসেছে ৮০ টাকায়। ফলে গত তিন সপ্তাহে কমপক্ষে সাড়ে চারশো কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন রাজ্যের মুরগি ব্যবসায়ীরা।

87878

খবরে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই করোনা আতঙ্ক গ্রাস করতে থাকে পোল্ট্রি শিল্পকে। আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ক্রমশ নিম্নগামী হতে থাকে ব্রয়লার মুরগির দাম। কমতে কমতে সোমবার খুচরো মূল্য নেমে গিয়েছে ৮০টাকায়।

ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মদন মোহন মাইতি বলেন, ‘যেখানে কিলোপ্রতি পাইকারি দাম থাকে ৮০-৮৫ টাকা। সেই দামে এখন খুচরো বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৫ টাকা প্রতি কেজি। ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সারা ভারতে ব্যবসা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।’

১০ বছর আগে সারা দেশে এই শিল্পে বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ কোটি টাকায়। রাজ্যে লেনদেন ছিল বছরে ১৬-১৭ হাজার কোটি টাকা।

মদন মোহন বলেন, ‘সপ্তাহে উৎপাদন মূল্যের ৬০ শতাংশ ক্ষতিতে মুরগি বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে সপ্তাহে গড় ক্ষতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা। তিন সপ্তাহে ৬০০ কোটি টাকা। আমাদের হিসাবে কমপক্ষে এই তিন সপ্তাহে সাড়ে চারশো কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে থেকেই করোনা আতঙ্কে ক্ষতি শুরু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ভারতে প্রায় ৫০ লাখ পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ৫ লাখ। ফেডারেশনের আশঙ্কা, এরপর আর মুরগি চাষ করার সাহস থাকবে না, থাকবে না অর্থও। সরকার আর্থিক সহযোগিতা না দিলে তিন লাখ কৃষক মুরগি পালন করা ছেড়ে দেবে। জানি না এই ক্ষতির পরিমাণ কতটা বাড়বে।

এই খাতে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মতে, চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞ কেউই দাবি করছেন না যে ব্রয়লার মুরগির মাংস খেলে করোনা আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে, মুরগির মাংসের প্রতি আতঙ্ক জন্মেছে সাধারণ মানুষের। হুহু করে নেমে গিয়েছে মুরগির মাংসের দাম। কেন এভাবে প্রচার করা হলো তা নিয়ে সরকারের তদন্ত প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।