বাইডেনের সঙ্গে কথা বললেন মোদি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার ফোনে কথা হয় দুই নেতার। এদিন সন্ধ্যায় টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে মোদি নিজেই এ ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম মোদির সঙ্গে কথা বললেন বাইডেন। ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, মিয়ানমার পরিস্থিতি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো নানা ইস্যুতে কথা বলেন দুই নেতা। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান মোদি।

মোদির টুইটে বলা হয়েছে, দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিল। বিশেষত নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়নও ছিল উল্লেখ করার মতো। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ট্রাম্পের জন্য ভোটও চেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার’ বলে ভোট চান তিনি।

চীনের বিরোধিতা করতে গিয়ে ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক দূর বিস্তৃত করেছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট বাইডেন চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সেক্ষেত্রে ভারতকে ট্রাম্প যে গুরুত্ব দিয়েছেন, বাইডেন আমলে হয়তো দিল্লি সেটা পাবে না। তবে সোমবার দুই নেতার ফোনালাপে অবশ্য তেমন ইঙ্গিত মেলেনি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে এদিন তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে চীনের শক্তি কমাতে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জোট তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এদিনের ফোনেও সে বিষয়ে দুই নেতার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কথা হয়েছে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিষয়েও।

মোদি টুইটে লিখেছেন, ‘রুলবেসড ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার’ রক্ষার জন্য দুই দেশই সরব হবে। এখানেই মিয়ানমারের প্রসঙ্গ প্রচ্ছন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ওয়াশিংটনের তরফেও দুই নেতার মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়েও কথা হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন দুই নেতা।

প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কি বাইডেন মোদিকে কোনও প্রশ্ন করছেন? দুই দেশের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনও তথ্য মেলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভাতিজি মিনা হ্যারিসকে নিয়ে বিজেপি যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্ন উঠেছে। মিনা কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। যার জেরে প্রকাশ্যে তার ছবি পুড়িয়েছে বিজেপি কর্মীরা। সূত্র: ডিডব্লিউ, ইন্ডিয়া টাইমস।