কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে ইতি, চার কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা বামফ্রন্টের

পশ্চিমবঙ্গের শেষ তিন বিধানসভা ভোটে রক্তশূন্য হয়ে বামেদের ফের ‘একলা চলো রে’ নীতিতে প্রত্যাবর্তন। চলতি মাসেই চার বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে ইতি টেনে একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে অবশেষে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী জোট রাজনীতির অবসান ঘটল এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। 

একুশের ভোটের আগে থেকেই পিরজাদার দল আইএসএফকে জোটে অর্ন্তভুক্ত করা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের তাল কেটে গিয়েছিল। বামফ্রন্টের মধ্যে থাকা দলগুলো প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছিল,তাদের অন্ধকারে রেখে আইএসএফকে জোটে নিয়ে সংযুক্ত মোর্চা গড়ার সিদ্ধান্ত একতরফা ভাবেই নিয়েছিল আলিমুদ্দিনের কর্তারা। বিধানসভা ভোটেই এই তরজার কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থীও দেওয়া হয়েছিল। এই অসন্তোষ ক্রমবর্ধমান হচ্ছিল বামশরিকদের মধ্যে। বামফ্রন্ট ভেঙে যাওয়ার উপক্রমও হয়েছিল। এবার এসব থেকে বেরিয়ে আসতেই ফের জোট বাতিল করে বামফ্রন্ট কে সামনে নিয়ে কিছুটা বাধ্য হয়ে লড়াইয়ে সিপিএমে।

একুশের নির্বাচনের পর সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বলেছিলেন,‘ভোট শেষ জোট শেষ।’ ফের সেই কথার প্রতিধ্বনি হলো সোমবার বিমান বসুর গলায়। জোটের ইতি টেনে তিনি এর দায়ভার কংগ্রেসের ঘাড়ে তুলে দিয়ে অভিযোগের সুরে বললেন,‘নির্বাচনের পর থেকে কংগ্রেসের দেখা পাইনি। সব কাজ তো ফোনে হয় না। কম ছিলাম কিন্তু আমরা রাজনীতির ময়দানে ছিলাম। কংগ্রেস কী করবে সেটা ওরা ঠিক করবে। আমরা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে আলোচনা করে চারটি প্রার্থী ঘোষণা করেছি।’ 

শুধু তাই নয়,এদিন তিনি এও বলেছেন,‘জোট ভাঙল নাকি রয়েছে,সেটা বলার মতো পরিস্থিতি এখন নেই।’ যদিও বিমান বসুর এই অভিযোগের পাল্টা কোনও বক্তব্য কংগ্রেসের তরফে এখনও মেলেনি।

এদিন চারটি উপনির্বাচনে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় দুই শরিকসহ একটি আসনে সিপিএমের নাম ঘোষণা হয়েছে। বামফ্রন্টের আসন বন্টন নীতি মেনেই দিনহাটায় ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হয়েছেন আব্দুর রউফ। শান্তিপুর থেকে সিপিএম প্রার্থী সৌমেন মাহাতো। খড়দহ আসনে সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস এবং গোসাবা কেন্দ্রে আরএসপি প্রার্থী অনিলচন্দ্র ম-ল প্রার্থী হয়েছেন। 

একুশের ভোটে গত ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় থাকা সিপিএম নেতৃত্বে থাকা বামফ্রন্টকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলেরও মর্যাদা পায়নি। অধিকাংশ প্রার্থীই ১৬ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছিলেন। জামানত জব্দ হয়েছিল তাদের। তরুণ মুখদের সামনে এনেও বাংলার রাজনীতিতে কামব্যাক করতে পারেনি লাল বিগ্রেড। নন্দীগ্রামে মমতা-শুভেন্দু দুই হেভিওয়েটের লড়াইয়ের মাঝেও নজর কেড়ে ছিলেন সিপিএমের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কিন্তু ৬ হাজারের থেকে সামান্য ভোট যা শতাংশের হারে মাত্র ২.৭৪ পেয়ে জামানত খুইয়ে ছিলেন। 

একইভাবে সিঙ্গুরে সৃজন ভট্টাচার্য ১৪.৩,খড়দহের দেবজ্যোতি দাস ১৪.৭০, জামুড়িয়ার ঐশী ঘোষ ১৪.৮৯,কল্যাণীর সবুজ দাস ১০.০৬, রাজারহাট-নিউটাউনের সপ্তর্ষি দেবরা ১৩.৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়ে ছিলেন। অপর দিকে,কামারহাটিতে সায়নদীপ মিত্র ১৯.৬২,বালিতে দিপ্সীতা ধর ১৭.৫১,কসবায় শতরূপ ঘোষ ১৭.৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে কোনও রকমে জামানত বাঁচিয়ে ছিলেন। একই হাল হয়েছিল শিলিগুড়ির হেভিওয়েট সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যওর। তিনিও মাত্র ১৬.১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। একমাত্র মান বাঁচিয়ে ছিলেন যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তী। তিনি ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এসেছিলেন। 

একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই এই জামানত হারানোর ট্র্যাডিশন সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটেও অব্যহত রয়েছে বামেদের। ভবানীপুরে সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছেন মাত্র ৪২০১ ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছেন। একই অবস্থা জঙ্গিপুর-সামশেরগঞ্জেও। জঙ্গিপুরে আরএসপি-র জানে আলম মিঞা পেয়েছেন মাত্র মাত্র ৯০৬৭ ভোট। আর সামশেরগঞ্জে সিপিএম প্রার্থী মোদাসসর হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৬,১৫৮ ভোট। জোট থাকুক বা না থাকুক বামেদের রক্তক্ষণ