ভারতের লখিমপুরে গাড়িচাপা দিয়ে কৃষক হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় মন্ত্রণালয়ের কাজে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র। গোপনে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। এই বিজেপি নেতার ছেলে আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধেই কৃষকদের গুলি করে ও গাড়িচাপা দিয়ে পিষে মারার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের খেরিতে কৃষকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন চলছিল। সেই সময়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের কনভয়। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়ের একটি গাড়ি দুই কৃষককে পিষে দেয়। সেই গাড়িতে ছিল মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। লখিমপুর খিরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরুণ কুমার সিং জানিয়েছেন, ওই সংঘর্ষে চার কৃষকসহ মোট আট জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দিনভর লখিমপুরে চলে তীব্র বিক্ষোভ।
ছেলের কৃতকর্মের জন্য এরইমধ্যে অজয় মিশ্রের মন্ত্রিত্ব বাতিলের দাবি উঠেছে। এর মধ্যেই শুধু কাজে যোগদান নয়, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও একান্তে বৈঠক করেছেন তিনি। সূত্র জানিয়েছে, লখিমপুর কাণ্ড এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে দুই মন্ত্রীর।
ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পরপরই আসরে নামেন অজয় মিশ্র। ছেলে এই কাজে জড়িত প্রমাণ হলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ারও চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশে ভোট দোরগোড়ায়। ফলে লখিমপুর খিরিতে চার কৃষকসহ আট জন নিহতের ঘটনা বিজেপিকে চাপে ফেলে দিয়েছে। যেখানে ১৭ সালের নির্বাচনে হু-হু করে উঠে এসেছিল বিজেপি, সেখানে এবার তাদের হু-হু করে নেমে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়েছে। লখিমপুরের খিরি জেলায় ২০১৭-এর ভোটে বিজেপি সবকটি আসনে বিজয়ী হয়। অথচ তার ঠিক আগের ভোটে দলটি জয় পেয়েছিল মাত্র একটি আসনে।
খিরি জেলার জনসংখ্যায় ব্রাহ্মণরা প্রধান। এখানকার ৮০ শতাংশই গ্রামীণ জনসাধারণ। বেশিরভাগ এলাকায় আখ চাষ হয়। চাষীদের অধিকাংশই শিখ। দেশভাগের পর এই শিখ পরিবারগুলোর পূর্বসূরিরা এই উর্বর ক্ষেত্রে পাকিস্তান থেকে এসে বসবাস শুরু করেন। তাদের বেশিরভাগই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।
বিজেপির আশঙ্কা, লখিমপুর খিরির সহিসংতা এই জেলার সীমানাবর্তী পিলভিট, শাহজাহানপুর, হরদোই, সীতাপুর ও বাহারাইচে প্রভাব ফেলবে। ২০১৭ সালের ভোটে এসব অঞ্চলেও বিজেপির ব্যাপক উত্থান ঘটেছিল। এখানকার ছয়টি জেলায় ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ৩৭টি। আর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়া সমাজবাদী পার্টি জিতেছিল মাত্র চারটি আসনে। কংগ্রেস কোনও আসন পায়নি। এই নির্বাচনি ফল ২০১২ সালের ফলাফলের অনেকটা বিপরীত। সেবার সমাজবাদী পার্টি এই অঞ্চলে পেয়েছিল ২৫টি আসন, বিএসপি পায় ১০টি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।