পশ্চিমবঙ্গের পৌর ভোটে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিজেপির নির্বাচন কমিশন ঘেরাও

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির যুব মোর্চার কলকাতায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কেন্দ্র করে উত্তপ্ত। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। বিজেপি কর্মীদের প্রিজন ভ্যানে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটকের মধ্যে গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালও রয়েছেন।

বিজেপির অভিযোগ, পৌর ভোটে রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল। বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে গুলি,কোথাও বিজেপি প্রার্থীদের রাস্তায় ফেলে পেটানোর অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যজুড়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলছে বিজেপি। এক্ষেত্রে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রতিবাদে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘেরাও অভিযান করে বিজেপি। এই অভিযান ঘিরে আগে থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশও। বিজেপির যুব মোর্চার মিছিল কমিশনের অফিসের সামনে পৌঁছতেই ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে শুরু হয় পুলিশের হাতাহাতি।

কমিশনের সামনে রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থককে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায় নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রথম দফা বিক্ষোভের পর দ্বিতীয়বার আরও একবার কমিশনের সামনে অনশনে বসেন বিক্ষোভকারীরা। বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল বলেন,‘আমরা কেউ পাগল নই,আমরা এখানে প্রত্যেকেই শিক্ষিত লোক। আমাদেরকে কীভাবে ধাক্কা দেয় পুলিশ? আমাদের গায়ে হাত দেওয়ার আগে,গ্রেফতার করার আগে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া উচিত যে কী কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে? পুলিশ কার হয়ে কাজ করছে,সবাই জানে। হাইকোর্টের অর্ডার আমরা কমিশনকে জানাতে এসেছিলাম। এত সহজ নয় প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে গ্রেফতার করা’।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী বীরভূম,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনাসহ একাধিক জেলাতে তৃণমূলের  কারণে বিজেপি প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। এর প্রতিকার না করায় অভিযোগ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন,‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে বিরোধীদের কী অবস্থা,মানুষ তা বুঝতে পারছে। তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনও শাসকদলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। যত অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে, গণতন্ত্র ততো দ্রুত উজ্জীবিত হবে’।