রামনবমী উদযাপন ঘিরে এবার পশ্চিমবঙ্গে আলাদা উন্মাদনা। কারণটা অনুমেয়,পর পর দু’বছর করোনার জন্য রামনবমী উৎসব ঘরের চৌহদ্দিতেই পালিত হয়েছে। এবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বে রামনবমী উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হলো রামনবমী। সংগঠনের সম্পর্ক প্রমুখ (দক্ষিণবঙ্গ) কমলেশ পাণ্ডে এ খবর জানালেন।
তিনি বলেন, ‘রামনবমী উপলক্ষে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় শোভাযাত্রা বের হয়। কলকাতার মধ্যে বরানগর, বড়োবাজার, বৌবাজার, খিদিরপুর, টালিগঞ্জ, এন্টালি। এছাড়াও বাসন্তী, বাযাসাত, ব্যারাকপুর, নৈহাটি, চণ্ডীতলা, চন্দননগর, সিঙ্গুর, আসানসোল, বর্ধমান, কাটোয়া, চন্দ্রকোনা রোড, তারকেশ্বর, কাঁথি, খড়গপুরের শোভাযাত্রায় এক লাখের মতো মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল জীবন্ত রাম, রামরথ, ট্যাবলো, রামের ছবি নিয়ে পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, শ্রী রামের মূর্তি। সর্বত্র রামের পূজা হয়।
অন্যদিকে, কলকাতায় বিশ্বহিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পাশাপাশি বহু সংগঠন এদিন রামনবমী পালন করেন। পথজুড়ে রঙিন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরোয়। দলীয় পতাকা ছাড়া রামনবমী উদযাপনে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে এদিন দক্ষিণেশ্বরে আদ্যাপীঠ মন্দিরে ভোর থেকেই উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। এদিন আদ্যাপীঠ মন্দিরে ২ হাজার কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
কথিত রয়েছে, অন্নদা ঠাকুরকে স্বপ্নে মা আদেশ দিয়েছিলেন আদ্যাপীঠে মাতৃরূপে তিনি পুজো নেবেন। সেই থেকেই এই পুজোর শুরু। ১০৮ বছর আগে ২৮ জন কুমারী নিয়ে প্রথম কুমারী পূজা শুরু হয় এই মন্দিরে। আজ সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ২ হাজারে। ফুল, মিষ্টান্নে অর্ঘ্য সাজিয়ে মাতৃরূপে কুমারী পুজো করা হয়।