দিল্লির সরকারি বাসভবন ছাড়লেন রাহুল গান্ধী

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নয়া দিল্লির সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন। শনিবার তিনি এই বাংলো ছাড়েন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ২০০৫ সাল থেকে এই বাংলোতে তিনি অবস্থান করছিলেন। কিন্তু একটি মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ লোকসভার সদস্য পদ ধরে রাখার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে রাহুল গান্ধী এবং তার বোন ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র দুইবার বাংলোতে গিয়েছেন।

লোকসভার আবাসন কমিটির প্রধান বিজেপি এমপি সিআর পাতিল এক চিঠিতে বাংলোটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাহুলকে বলেছিলেন। চিঠিতে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। প্রটোকল অনুসারেই রাহুলকে বাসাটি ছাড়তে হতো। তবু কংগ্রেস নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

ভারতের আইন অনুসারে, অযোগ্য ঘোষিত কোনও এমপি সরকারি বাসভবন ব্যবহার করতে পারেন না। অযোগ্য ঘোষণার পর একমাস সময় দেওয়া হয় বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য।

গুজরাটের আদালত রাহুলকে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে ৩০ দিনের সময় দিয়েছিল। তিনি আপিল করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার আপিলে তিনি হেরে যান। এর ফলে আপাতত এমপি হিসেবে বহাল থাকতে পারছেন না।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি দল বলছে, নিম্ন আদালতের দোষী সাব্যস্তের রায় আপিল কোর্টে সমর্থন পাওয়া গান্ধী পরিবারের মুখের ওপর চপোটাঘাত। আদালত প্রমাণ করেছে, আইন সবার জন্য সমান। কোনও নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে না।

ওয়ানাড়ের সাবেক এমপি রাহুলকে এখন গুজরাট হাই কোর্টে অথবা সুপ্রিমকোর্টে সুরাতের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে। আপিলে জয়ী হলে লোকসভার সদস্যপদ ফিরে পেতে পারেন তিণি।

এর আগে ৩ এপ্রিল সুরাতের সেশন কোর্ট কংগ্রেস নেতার জামিন মঞ্জুর করে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন।

২৩ মার্চ সুরাটের সিজেএম আদালত ‘মোদি উপাধি’ সম্পর্কে ২০১৯ সালে করা মন্তব্যের জেরে মানহানি মামলায় রাহুলকে ৫০৪ ধারার অধীনে দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কর্ণাটকের কোলারে একটি সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ‘সব চোরেদের পদবী কীভাবে মোদি হতে পারে?’

এ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক ও গুজরাটের সাবেক মন্ত্রী পূর্ণেশ মোদি।

সূত্র: এনডিটিভি