বৈঠকে বাংলাদেশের দশ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সিআইডির উপ-মহাপরিদর্শক মো. সাইফুল আলম। ভারতীয় দলের হয়ে সভাপতিত্ব করেন এনআইএ-র ইন্সপেক্টর জেনারেল সঞ্জিব কুমার সিং। ভারতীয় প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাসহ কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।
আলোচনায় জালনোটের কারণে অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উভয়পক্ষ। গুরুত্বসহকারে জালনোট পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উভয় দেশ একমত হয়। সাম্প্রতিককালে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জালনোট আটক করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ভারতের প্রতিনিধি দল।
আলোচনায় উভয় দেশ জালনোট পাচারকারী চক্রের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে একমত হয়েছেন। এছাড়া উভয় দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপারদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য তথ্য বিনিময় করেছেন যৌথ টাস্কফোর্স।
এছাড়া উভয়পক্ষের সম্মতিতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর-এসওপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জালনোট পাচার রোধে গতবছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র সচিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকেই এসওপি স্বাক্ষর হলো।
এসওপিতে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা হলো, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, দুই দেশের জালনোট পাচারের ডাটাবেজ তৈরি ও বিনিময়, উভয় দেশের সহযোগিতায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে জালনোট পাচারবিরোধী প্রচারণা কর্মসূচি গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশে প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজন।
যৌথ টাস্কফোর্সের অগ্রগতি নিয়ে উভয় দেশ বৈঠকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। টাস্কফোর্সের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
/এএ /এএইচ/