দীর্ঘ ৫৬ বছর আট মাসের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটলো। অবশেষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সেনা থমাস চেরিয়ানের লাশ পেলো তার পরিবার। ১৯৬৮ সালে হিমাচল প্রদেশে ১০২ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল বিমানবাহিনীর এক উড়োজাহাজ। সেই দুর্ঘটনার ৫৬ বছর পর বরফের নীচ থেকে সম্প্রতি উদ্ধার হয়েছে প্রায় অক্ষত চারজনের লাশ। তাদেরই একজন থমাস চেরিয়ানের লাশ শনিবার (১২ অক্টোবর) ফেরত দেওয়া হয় পরিবারের কাছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
১৯৬৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের চণ্ডীগড় থেকে আকাশে উড়াল দিয়েছিল বিমানবাহিনীর এএন-১২ বিমান। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে রোটাং পাসের কাছাকাছি পৌঁছেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। তারপর থেকে অনেক চেষ্টা করেও কোন কূল-কিনারা পাওয়া যায়নি বিমানটির।
২০০৩ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী শৈলারোহণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা প্রথম ওই বিমানের বরফে ঢাকা ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। এর পর থেকে ওই অঞ্চলে ভারতীয় সেনার ডোগরা স্কাউট দলের উদ্যোগে একাধিক উদ্ধার অভিযান হয়েছে। কিন্তু এত চেষ্টা করেও এ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাত্র পাঁচটি লাশ। সম্প্রতি আরও চারটি লাশ উদ্ধার করলেন চন্দ্রভাগা পর্বত অভিযানের সদস্যেরা। তাদেরই একজন থমাস চেরিয়ান।
চেরিয়ান ছিলেন পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় এবং নিখোঁজ হওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। তিনি তার প্রথম ফিল্ড পোস্টিংয়ের জন্য হিমালয়ের লেহ অঞ্চলে যাচ্ছিলেন।
২০০৩ সালে ওই বিধ্বস্ত বিমানের প্রথম দেহটি যখন পাওয়া যায়, তখন সবাই ধরেই নিয়েছিল থমাসও আর ফিরবে না। তবু অপেক্ষা ছিল। কারণ তখনও থমাসের লাশটি পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে থমাসের বাবা আর ১৯৯৮ সালে তার মা মারা যান। মৃত্যুর সময়ও তাদের আশা ছিল-ছেলে নিখোঁজ রয়েছে, একদিন হয়ত ফিরবে।
কিন্তু এতদিনের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হলো-বলে জানিয়েছেন তার ভাই থমাস থমাস। শেষ পর্যন্ত মৃতদেহ হলেও তা পাওয়া গেলো।
ওই দুর্ঘটনায় নিহত নারায়ণ সিংয়ের মৃতদেহও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নারায়ণ সিং এর স্ত্রী বাসন্তী দেবী দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর নতুন জীবন শুরু করেন। বিয়ে করেন নারায়ণ সিং এর চাচাতো ভাইকে। ২০১১ সালে মারা যান বাসন্তী দেবী। তখনও তার আশা ছিল হয়ত একদিন ফিরে আসবে নারায়ণ সিং, জানিয়েছেন বাসন্তী দেবীর ছেলে জয়বীর সিং।