দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আউটলেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার লাক্ষাদ্বীপ মদ্যপান নিষেধাজ্ঞা আইন ১৯৭৯ বাতিল করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের এই আইনের কারণে মূলত পুরো দ্বীপপুঞ্জটিই এতদিন মদমুক্ত ছিল, যেখানে কেবল কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের সরকারি বার ও পর্যটন রিসোর্টগুলোর জন্য সীমিত ছাড় ছিল।
গত ৫ জুন প্রকাশিত একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা আইনটি বাতিল করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসক কর্তৃক অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞাপিত তারিখ থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে।
নতুন লাক্ষাদ্বীপ আবগারি বিধিমালা ২০২৬ অনুযায়ী আগের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন মদের উৎপাদন, দখল, আমদানি, রফতানি, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় ও ব্যবহারের জন্য একটি লাইসেন্সিং কাঠামো চালু করা হচ্ছে। এটি সরকারি মালিকানাধীন কর্পোরেশন এবং সংস্থাগুলোকে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় আমদানি ও খুচরা বিক্রির লাইসেন্স নেওয়ার অনুমতি দেবে।
তবে, অ্যালকোহল সংক্রান্ত করের হার অনেক বেশি রাখা হয়েছে। ইন্ডিয়ান মেড ফরেন লিকার (আইএমএফএল) এবং বিদেশী মদের ওপর আবগারি শুল্ক ৪০০ শতাংশ, বিয়ারের ওপর ২০০ শতাংশ এবং ওয়াইনের ওপর ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গগত, দিল্লিতে আইএমএফএল, বিয়ার, ওয়াইন এবং আমদানিকৃত বিদেশী মদের ওপর ২৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া হয়।
অবশ্য এই নতুন বিধিমালার মানেই অবাধ মদের বাজার নয়। মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ, ক্রয় ও নিজেদের কাছে রাখার সীমা নির্ধারণ, এমনকি লাক্ষাদ্বীপের সম্পূর্ণ বা যেকোনও অংশে মদ্যপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষমতা প্রশাসকের হাতেই থাকছে। এছাড়া ২১ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের কাছে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের ১০টি দ্বীপ মানববসতিপূর্ণ; যার মধ্যে রয়েছে আগাত্তি, আমিনি, আন্দ্রোত, বিত্রা, চেতলাত, কাদমাত, কালপেনি, কাভারাত্তি, কিলতান এবং মিনিকয়। বিদেশী এবং ভারতীয় পর্যটকদের বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে এই দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বিদেশী পর্যটকদের যাতায়াত কেবল আগাত্তি, বাঙ্গারাম ও কাদমাত দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে