সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (১০ জুন) তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি জনসেবা, নম্রতা এবং কর্তব্যের মতো মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেছেন, যা তার মতে সুশাসনের ভিত্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, কেবল নিঃস্বার্থ সেবা এবং জনগণের প্রতি উৎসর্গীকৃত মনোভাবের মাধ্যমেই জনমানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, জনসেবাই হলো সুশাসনের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। কেবল সেই ব্যক্তিই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন, যিনি নম্রতা, উৎসর্গ এবং কর্তব্যবোধ নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
নেতৃত্ব নিয়ে একটি সংস্কৃত শ্লোক উল্লেখ করে মোদি জোর দিয়ে বলেন, শাসকদের অবশ্যই নাগরিকদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে এবং নম্রতার সঙ্গে শাসন করতে হবে। তিনি বলেন, যিনি স্বভাবগতভাবেই নিবেদিতপ্রাণ, তিনি সর্বদা তার প্রজাদের কল্যাণে সচেষ্ট থাকেন। একজন নম্র আত্মার রাজাই প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ গৌরব লাভ করেন।
মোদির এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনে এনডিএ জোটের নেতারা অভিনন্দন বার্তায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার অভিনন্দন বার্তায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ১২ বছরের শাসনকাল ছিল ভারতের গৌরব পুনরুদ্ধার, সাংস্কৃতিক নবজাগরণ এবং জাতিকে দাসত্বের মানসিকতা থেকে মুক্ত করার সময়।
এদিকে, বিশ্বনেতারাও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই মাইলফলক অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর নরেন্দ্র মোদির এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার প্রশংসা করে এক পোস্টে লিখেছেন, ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। এই অর্জন তার কয়েক দশকের নিবেদিত জনসেবা এবং নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী প্রমাণ! তার জন্য শুভকামনা।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। বুধবার তিনি টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পূর্ণ করলেন। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভেঙে দিলেন। ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে নেহরু টানা ৪,৩৯৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে