সীমান্তে যৌথ টহল জোরদারে একমত ঢাকা-দিল্লি

অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে চলমান উত্তেজনার মাঝেই যৌথ সীমান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। এজন্য সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষস্তরের কর্মকর্তাদের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকার সাথে দিল্লির সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টার মাঝেই ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে লোক ঠেলে দেওয়া বা পুশ-ইন চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ঢাকা। এই বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।

নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যকার এই নিয়মিত আলোচনাকে যৌথ বিবৃতিতে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রমবর্ধমান বির্তকিত বিষয় হয়ে ওঠা সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ও জোরপূর্বক পারাপার নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ স্থলসীমান্ত। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সীমান্তবর্তী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে এবং কথিত অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে। গত বছর থেকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।

বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই ধরনের তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা নয়াদিল্লির কাছে এক ডজনেরও বেশি চিঠি পাঠিয়েছে। বিজিবি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তে বেশ কয়েকটি পুশ-ইনের চেষ্টা নস্যাৎ করার কথা জানিয়েছে। একই সাথে সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন নজরদারি জোরদার করেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যেকোনও ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

বাংলাদেশ জানিয়েছে যে তারা সীমান্তে টহল জোরদার করেছে এবং জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। অন্যদিকে গত মে মাসে ভারত জানায় যে তারা কোনও আনুষ্ঠানিক নথিপত্র ছাড়া ভারতে বসবাসকারী ২,৮৬০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশির জাতীয়তা যাচাই করার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ করেছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ মানব পাচার, সীমান্তে মৃত্যু, চোরাচালান, অবকাঠামো এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণ, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান ও সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত টহল আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় বিজিবি ও বিএসএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স