পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার দলটির একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছেন। এ ঘটনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূল সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় ও মহুয়া মৈত্র এবং দলীয় নেত্রী সোনালি গুহকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার বারাসাত বিধানসভা আসনে নির্বাচনে লড়তে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন এমন বক্তব্য এবং তার পরিবারকে ঘিরে করা ব্যক্তিগত অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে মানহানির মামলা করা হতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করে বলেছিলেন, ‘কিছু মানুষ’ বারাসাত থেকে বিধায়ক হওয়ার টিকিট চেয়েছিলেন, কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তা নাকচ করে দেয়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, একজন যখন ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য, তখন তার পরিবারের সবাইকেও কি সংসদ সদস্য বা বিধায়ক হতে হবে?
অ্যাডভোকেট পূজা শুকলার মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন যে তিনি কখনও বারাসাত থেকে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, তার মাকে ঘিরে রাজনৈতিক মতবিরোধের পেছনে তার নির্বাচনী উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল এমন বক্তব্য মিথ্যা।
এছাড়া সোনালি গুহ তার, তার ভাই এবং বারাসাতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিয়মিত মদ্যপান করেন বলে যে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সেটিও জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বৈদ্যনাথ। তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে উল্লেখ করেছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একজন চিকিৎসক এবং তার সুপ্রতিষ্ঠিত একাডেমিক ও পেশাগত পরিচিতি রয়েছে। তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে করা মন্তব্য তার সুনামের ক্ষতি করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, তিনি বারাসাত বিধানসভা আসন থেকে কখনও মনোনয়ন চাননি বা চাওয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেননি। তার মাকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দলীয় টিকিট না পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন ধারণাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তবে একইসঙ্গে নোটিশে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক পরামর্শক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তাকে বারাসাত থেকে নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করেছিলেন।
বৈদ্যনাথ নোটিশপ্রাপ্তদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, তারা যেন অবিলম্বে তাকে নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় কোনও মন্তব্য করা বা পুনরাবৃত্তি করা বন্ধ করেন, সব কথিত মানহানিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করেন, ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চেয়ে স্বীকার করেন যে তিনি কখনও রাজনৈতিক মনোনয়ন চাননি।