ভারতের পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী নয়াদিল্লিতে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। পার্লামেন্টের বাইরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভ চলতে থাকলেও ভেতরে সরকার ও বিরোধী দল নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ব্যস্ত ছিল। সোমবার সকালে পার্লামেন্ট চত্বরে পৌঁছানোর আগেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দিনটি স্বাভাবিক হবে না। মধ্য দিল্লিজুড়ে ব্যারিকেড, কড়া নিরাপত্তা ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। লে মেরিডিয়ান হোটেল ও রেল ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ছিল সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো।
সকাল ১০টার দিকে সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টে পৌঁছাতে শুরু করেন। তাদের অনেকেই আইন প্রণয়ন বা রাজনীতির পরিবর্তে রাজধানীর তীব্র যানজট নিয়েই কথা বলেন। পার্লামেন্টের ভেতরে সিজেপির আন্দোলন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নেন। অন্যদিকে, সরকার দলের নেতারা অভিযোগ করেন, এ বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবকে অযোধ্যার সংসদ সদস্য আওধেশ প্রসাদের সঙ্গে দিনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে দলটির নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে ডিম্পল যাদব পার্লামেন্ট চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেন।
এদিকে পার্লামেন্টের ভেতরে সরকারের তৎপরতাও বাড়তে থাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দফতরের বাইরে একের পর এক বৈঠক চলতে থাকে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক শেষে নিজের বাসভবনে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় যোগ দেন। তার কিছুক্ষণ পরই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও অমিত শাহর দফতরে প্রবেশ করেন। অমিত শাহ ও ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়ালও ওই বৈঠকে যোগ দেন।
সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে নাড্ডা ও সিজেপি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় নাড্ডা তাদের দাবিগুলো জানতে চান এবং লিখিতভাবে তা জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে সিজেপি তাদের দাবিসংবলিত লিখিত স্মারকলিপি নাড্ডার কাছে জমা দেয়।
তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পার্লামেন্ট চত্বরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি হঠাৎ আরও জোরদার করা হয়। সিআইএসএফ সদস্যদের দৌড়ে বিভিন্ন স্থানে ছুটে যেতে দেখা যায়। বিজয় চক সংলগ্ন পার্লামেন্টের একটি প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন এবং পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পার্লামেন্টের ভেতরে বৈঠক ও আলোচনা অব্যাহত থাকে।
দুপুর ২টার দিকে কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা না করে সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করছে।
দিন শেষে সিজেপির তিন দফা দাবির বিষয়ে সরকার কোনও আশ্বাস দেয়নি। নাড্ডা আন্দোলন প্রত্যাহার করে প্রশাসনকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
দিনভর সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখে। কর্মকর্তারা আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে বলপ্রয়োগ এড়াতে অথবা প্রয়োজনে সর্বনিম্ন মাত্রায় বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পার্লামেন্ট অধিবেশনের প্রথম দিনটি শেষ হয় দুই ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে; বাইরে চলছিল বিক্ষোভ, আর ভেতরে চলছিল আলোচনা ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে