ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনরত লাদাখি অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সরকারি সফদরজং হাসপাতাল থেকে বেসরকারি মেডান্টা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আদালত জানায়, ওয়াংচুকের উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না। দুপুরের বিরতির পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হবে।
আদালত স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়ার আগে ওয়াংচুক জানান, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের জবাবদিহি দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।
এর আগে শুনানিতে আদালত কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে প্রশ্ন করেন, ওয়াংচুককে মেডান্টায় স্থানান্তরে বাধা কোথায়। জবাবে মেহতা বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রের কোনও আপত্তি নেই, তবে সরকারের সম্মতি ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
শুনানির শুরুতে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সফদরজং হাসপাতাল, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের মতামতও তুলে ধরা হয়।
ওয়াংচুকের স্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী আখিল সিবাল আদালতকে বলেন, তার জীবনের তাৎক্ষণিক কোনও ঝুঁকি নেই। চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে এ মুহূর্তে ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়নি। সরকারি হাসপাতালেও তাকে শুধু মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনস্থলেও ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তার শারীরিক সূচক স্থিতিশীল রয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা সম্ভব।
এ সময় ওয়াংচুকের লেখা একটি চিঠিও আদালতে পড়ে শোনান তার আইনজীবী। চিঠিতে ওয়াংচুক দাবি করেন, তাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তার চারপাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, তার ডিভাইস কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি দর্শনার্থীদের তল্লাশি করা হচ্ছে এবং কাগজপত্রও ভেতরে নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে এক সরকারি চিকিৎসক আদালতে জানান, ওয়াংচুকের শ্বেত রক্তকণিকার (ডব্লিউবিসি) মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করে তার জীবন রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে ওয়াংচুককে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনের কারণে ওয়াংচুকের অঙ্গ বিকল হওয়া ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন দাবিতে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত ওই নির্দেশ দিয়েছিল।
আদালতের সিদ্ধান্তের পর ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, আমাদের পছন্দের হাসপাতাল মেডান্টায় সোনম ওয়াংচুককে ছাড়পত্র দেওয়ার অনুকূল আদেশ দেওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ।