ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে আপত্তিকর মন্তব্য করা কিশোরীর মা বলেছেন, তার মেয়েকে ‘নতুন জীবন’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশোধের বদলে ক্ষমার পথ বেছে নেওয়ায় তিনি মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘হাতজোড় করে’ তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তার ভাষায়, মেয়ের জন্য এটি দ্বিতীয় সুযোগ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি এমন একটি শিশুকে ক্ষমা করে নিজের মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন, যে তার বিরুদ্ধে এত অশালীন ও নোংরা ভাষা ব্যবহার করেছিল। আজ তার জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রী তাকে সবচেয়ে বড় উপহার ‘জীবনদান’ দিয়েছেন। আজ আমার মেয়ের নতুন করে জন্ম হয়েছে।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর-মন্তরে আয়োজিত শিক্ষার্থী বিক্ষোভে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় যারা এমন স্লোগান দিয়েছেন, তাদের ‘বিভ্রান্ত’ বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, এর জবাব ‘রাগ বা প্রতিশোধে’ নয়।
এর কিছুক্ষণ পরই কিশোরীর ক্ষমা চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নিজেকে ১৫ বছর বয়সী বলে পরিচয় দিয়ে সে জানায়, নিজের কাজের গুরুত্ব সে বুঝতে পেরেছে। ভিডিওতে কিশোরী বলে, আমি যা করেছি, তা ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি অনেক খারাপ কথা বলেছি। নিজের এটিকে ‘প্রথম এবং শেষ ভুল’ উল্লেখ করে সে বলে, আমি পুরো দেশের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি খুব লজ্জিত। নিজের দিকেও তাকাতে পারছি না। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন।
তবে ক্ষমা চাওয়ার পরও ২৩ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কিশোরীর বিরুদ্ধে নয়ডার একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে নয়ডা পুলিশ একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে, যা পরবর্তীতে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীর মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং তা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত ও বিভেদ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
কিশোরীর মা জানান, তিনি ও তার মেয়ে বারবার ক্ষমা চেয়ে এফআইআর প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এফআইআরে তার মেয়ের বয়স ভুল করে ২৫ বছর লেখা হয়েছে, যদিও সে ১৫ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক। তিনি সরকারের প্রতি ২০ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও দাবি জানান।
এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কিশোরীর বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন। মোদির ইনস্টাগ্রাম ভিডিও নিয়ে তিনি লেখেন, শুধু রিলে ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাগুলোও প্রত্যাহার করবেন?