শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার পুনরায় অনুরোধ জানালেও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের বিচারবিভাগ ও আদালত। এটি কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, হস্তান্তরের সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত আমাদের আদালত নেবে, এটি কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। আর আদালতের প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে যে অপরাধগুলো সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত কি না।

অপর এক কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধকে দিল্লি ও ঢাকার বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টির সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রহমানের হস্তান্তরের অনুরোধের বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  এক মুখপাত্র বলেন, আমরা আমাদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছি এবং এ বিষয়ে কোনও আপডেট থাকলে আমি আপনাদের জানাব।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তির বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি সংযুক্ত করেই শেখ হাসিনাকে ফেরানোর এই অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা আদালতের দণ্ড কার্যকর করার জন্য কোনও অপরাধীকে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হস্তান্তরযোগ্য কোনও অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি হলে তা চুক্তিভুক্ত অপর দেশের ‘বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ’ নিষ্পত্তি করবে। চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ অপরাধগুলো বিবেচনা করা হবে না। তবে এতে হত্যা, অনৈচ্ছিক নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনার মতো ১২টি অপরাধকে তালিকাভুক্ত করে বলা হয়েছে, এগুলোকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

এছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনের বিধানাবলিও এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, যা পালিয়ে আসা অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়। এই আইন অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিপিভি (কনস্যুলার, পাসপোর্ট অ্যান্ড ভিসা) বিভাগ প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়ে নোডাল অফিস হিসেবে কাজ করে। চুক্তি বা ব্যবস্থা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় উপযুক্ত মনে করলে পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন ইনকোয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।

আইনে বলা হয়েছে, যদি ইনকোয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে হস্তান্তরের জন্য উপযুক্ত মনে করেন, তবে তিনি প্রতিবেদনে হস্তান্তরের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, তদন্ত শেষে যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে আবেদনকারী দেশের দাবির সপক্ষে প্রাইমা ফেসি কোনও মামলা গড়ে ওঠেনি, তবে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেবেন।