বঙ্গোপসাগরে ভারতের ওড়িশার পারাদীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ২৪ জন নাবিক নিয়ে পানামার পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে বড় ধরনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড (আইসিজি) ও ভারতীয় নৌবাহিনী। রবিবার (২৩ আগস্ট) ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
উদ্ধার করা জাহাজটির নাম ‘এমভি ওশান উইনার’ বা আইএমও ৯১৪৫৫৩০। ভারতীয় কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জাহাজটিতে ২০ জন চীনা, ৩ জন মায়ানমারের এবং ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক নাবিক হিসেবে ছিলেন। জাহাজটির শেষ নোঙর ছিল পারাদীপ বন্দর এবং পরবর্তী গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর। এখন পর্যন্ত লাইফরাফ্ট থেকে দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোস্ট গার্ড। বাকি ২২ জন নাবিককে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের কোস্ট গার্ডের মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে জাহাজ সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানির কাছ থেকে খবর পায় যে, এমভি ওশান উইনারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোম্পানিটি থেকে অবিলম্বে অনুসন্ধান ও উদ্ধারের অনুরোধ করা হয়। ওড়িশা থেকে আকরিক লোহা বা আয়রন ওর বোঝাই করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল বাল্ক ক্যারিয়ারটি।
খবর পাওয়ার পর এমআরসিসি ওই এলাকার কাছাকাছি থাকা ‘এমটি আইসোপোস’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্দেশ দেয় এমভি ওশান উইনার বা লাইফরাফ্টের খোঁজে তল্লাশি চালাতে ও সহায়তা করতে।
আইসিজি জানিয়েছে, রাত প্রায় ৮টার দিকে এমটি আইসোপোস দুটি লাইফরাফ্ট থেকে দুইজনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজ বাকি নাবিকদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ড এবং ভারতীয় নৌবাহিনী যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানের জন্য আইসিজি জাহাজ ‘বরদ’ ও ‘আনমোল’ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কাজ জোরদার করতে শ্রী বিজয়া পুরম থেকে পাঠানো হয়েছে জাহাজ ‘বিজিত’। ওই এলাকায় অবস্থানরত অন্যান্য জাহাজের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে নিখোঁজ নাবিক ও লাইফরাফ্টগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
জাহাজটি কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডুবে যাওয়ার আগে জাহাজটির পরিস্থিতি এবং নিখোঁজ নাবিকদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।