বাংলাদেশি গায়ককে ভোটের প্রচারে কেন? বিজেপিকে প্রশ্ন মমতা শিবিরের

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এক গায়ককে অর্থ দেওয়ার ঘটনায় নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কঠোর সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ও প্রচারের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র নীলাঞ্জন দাস। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

সাম্যাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে নীলাঞ্জন দাস নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাবের বরাত দিয়ে দাবি করেন, নির্বাচনী কাজের জন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তী এবং শমিক অধিকারীকে অর্থ দিয়েছে বিজেপি। টিএমসির তথ্য অনুযায়ী, সায়ক চক্রবর্তীকে আড়াই লাখ রুপি এবং শমিক অধিকারীকে প্রায় ১৩ লাখ রুপি দেওয়া হয়েছে। 

তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিজেপির অনুকূলে ন্যারেটিভ বা প্রচার তৈরির সঙ্গে এই পেমেন্টের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। বিশেষ করে শমিক অধিকারীর ‘বাটন’ ভিডিও এবং কলকাতার একটি পাবে সায়ক চক্রবর্তীর বিতর্কিত সফর ও ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলেছে তৃণমূল। তবে অর্থ দেওয়ার এসব নথিতে ভিডিওগুলো কোনও সমন্বিত প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি করার বিষয়টি প্রমাণ করে না।

এক্সের আরেকটি পোস্টে বাংলাদেশি গায়ক সংগীত সরকারকে বিজেপি অর্থ দিয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল মুখপাত্র। নির্বাচন কমিশনের ব্যয়ের হিসাবের তথ্য টেনে তিনি জানান, মার্চ-মে মাসের নির্বাচনী প্রচারের কাজে সংগীত সরকারকে প্রায় ২ লাখ রুপি অর্থ দিয়েছে বিজেপি। 

বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক বার্তার তীব্র সমালোচনার কথা উল্লেখ করে নীলাঞ্জন দাস প্রশ্ন তোলেন, যে দলটি নিয়মিত ‘বাংলাদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’দের নিয়ে সমালোচনা করে, তারা কীভাবে নির্বাচনী প্রচারের জন্য একজন বাংলাদেশি গায়ককে নিযুক্ত করে?

ডিজিটাল প্রচারে বিজেপির রেকর্ড ব্যয় ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারের পেছনে রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচন চলাকালীন বিজেপি মোট ৫২৯.৩৮ কোটি রুপি ব্যয় করেছে, যার মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে ২৮৬.৯৯ কোটি রুপি। এর মধ্যে গুগল ও মেটার বিজ্ঞাপন বাবদ কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে দলটি। 

এদিকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অর্থ প্রদান নিয়ে কোনও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলীয় নেতা সায়নন্তন বসু জানিয়েছেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মিতভাবেই বিজ্ঞাপন এজেন্সি ও পেশাদারদের নিয়োগ করে থাকে এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই সব ব্যয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।