গত রবিবার দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং মেঘলা আকাশের পর এই অস্বাভাবিক ঠান্ডা রাতের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে এ বছর কি তবে শীত আগেভাগে চলে আসছে।
উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখা হয়েছে, ফ্যানের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে আবহাওয়ায় হঠাৎ এই পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। তবে এই তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে এল নিনো বা শীতের আগাম আগমনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার ফল, যার ফলে ভারতজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তাপমাত্রা হ্রাসের কারণ
বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগে প্রবেশ করা একটি দীর্ঘস্থায়ী গভীর নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল। মৌসুমী বায়ু বিদায় নেওয়ার সময় হওয়ায় এই নিম্নচাপটি যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিল বলে ‘মৌসম টাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্র ত্রিপাঠী ইন্ডিয়া টুডেকে জানান। মৌসুমী বায়ু সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চল এবং উত্তর সমভূমিতে পশ্চিমা বায়ু শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যা আবহাওয়া ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
এই নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু করে তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানও এর আওতাভুক্ত ছিল। একটানা মেঘলা আকাশ, বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে দিনের বেলার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়নি। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি কোনও ঋতু পরিবর্তনের লক্ষণ নয়, বরং একটি সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
তাপমাত্রা কি আবার বাড়বে?
নিম্নচাপটি দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের বেশিরভাগ অংশে রোদের দেখা মিলতে পারে। মেঘের পরিমাণ কমলে এবং বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হলে দিনের তাপমাত্রা ফের বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তর সমভূমি অঞ্চলে উষ্ণ আবহাওয়া ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসছে আরেকটি নিম্নচাপ
মিয়ানমারের কাছে তৈরি হওয়া আরেকটি নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারলেও আগের সিস্টেমটির মতো এটি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এই নতুন সিস্টেমটির প্রভাবে পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে মেঘ ও বৃষ্টি হতে পারে।
তবে কি শীতের আগমনী বার্তা?
এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো- না। আপাতত বিষয়টি স্পষ্ট যে, দিল্লির এই অস্বাভাবিক ঠান্ডা সেপ্টেম্বর রাত কোনোমতেই শীতের আগাম বার্তা নয়। তাপমাত্রার এই সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পূর্ণ সাময়িক এবং এর সঙ্গে এল নিনোর কোনও প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে