ভারতের পথেই হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র: জয়শঙ্কর

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কূটনৈতিক পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতির অবস্থানে একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সাবেক সহকারী সচিব ড্যানিয়েল রাসেলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, অতীতে মানুষ আমাদের সম্পর্কে যা বলত, ওয়াশিংটন আজ ঠিক তাই খুব আনন্দের সঙ্গে চর্চা করছে। আপনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন, এশিয়া বা ইউরোপের অন্যান্য অংশের সঙ্গেও কাজ করছেন। অর্থাৎ, আসলে ওয়াশিংটন এখন তাই করছে, যা ভারত দীর্ঘদিন ধরে চর্চা করে এসেছে।

আলোচনার সময় ড্যানিয়েল রাসেল বহুমুখী কূটনীতি নিয়ে একটি মার্কিন প্রবাদ তুলে ধরে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এর জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, জটিল ও কখনও কখনও পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক সামলানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনও বর্তমানে একইভাবে বহুবিদ কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বৃহত্তর পরিবর্তন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় রূপান্তরকে নির্দেশ করে। অতীতে এমন একটা সময় ছিল যখন বলা হতো, ‘আমরা চাই না আপনাদের অনেকগুলো বিকল্প থাকুক, কারণ আমরা চাই আপনারা আমাদের সঙ্গেই সম্পর্ক গভীর করায় মনোযোগ দিন’। অথচ বৈশ্বিক পরাশক্তি হওয়ার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজেদের ক্ষেত্রে অনেক বিকল্প খোলা রেখেছিল।

দ্বিমুখী সেই কূটনৈতিক আচরনের সমাপ্তি টেনে তিনি ঘোষণা করেন, আজ সবার সেই রাখঢাক বা ভনিতা কেটে গেছে। এখন সবাই সবার সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই কাঠামোগত বিবর্তন বিশ্বকে একটি বহুমুখী বা বহুপ্রমের বিশ্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বাস্তববাদী কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি থেকে সবচেয়ে ভালো সুবিধাটি আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।