মমতার নন্দীগ্রামের পায়ের চোট ‘ভুয়া’, ‘প্রমাণ আছে’: শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে যে চোট লেগেছিল, তা ‘ভুয়া’। এ দাবির সমর্থনে তার কাছে নথিপত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার নন্দীগ্রামে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এ দাবি করেন শুভেন্দু। বিরুলিয়া বাজারে এক সমাবেশে তিনি বলেন, তাকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা হলে প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন।

২০২১ সালের মার্চে মমতা যে এলাকায় আহত হয়েছিলেন, সেই বিরুলিয়া বাজারে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতাধীন হওয়ায় হাসপাতাল কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, এক্স-রে প্লেট রোগীকে দেওয়া হলেও রিপোর্টের একটি কপি হাসপাতালে থেকে যায়। তার কাছে সেই কাগজ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মমতা তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তার চিকিৎসকেরা রিপোর্টে লিখেছিলেন ‘কোনও ফ্রেকচার নেই’।

শুভেন্দু দাবি করেন, চলন্ত গাড়ির খোলা দরজা রাস্তার ধারের একটি লোহার খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে তার ওপর এসে পড়েছিল, যার ফলে তার পায়ে সামান্য চোট লেগেছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ পরে ঘটনাটিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যা নন্দীগ্রামকে কলঙ্কিত করেছে।

তিনি বলেন, আমাকে যদি কখনও চ্যালেঞ্জ করা হয়, তবে আমি এটি সবার সামনে নিয়ে আসব। আমি এখন পুলিশ মন্ত্রীও বটে। মমতা পুরো বিরুলিয়া এলাকা ও এই অঞ্চলকে অপমান করেছেন। সিআইডি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বারবার আমাদের স্থানীয় নেতাদের তলব করেছিল। এর কিছুই আমি ভুলে যাইনি।

উল্লেখ্য ২০২১ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন প্রচারের সময় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ার রেয়াপাড়া এলাকায় আহত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি বলেছিলেন, ভিড়ের মধ্যে কিছু অজানা লোক তাকে ধাক্কা দিয়ে খোলা গাড়ির দরজায় ফেলে দিয়েছিল, যার ফলে তার বাঁ পায়ে জোরে ধাক্কা লাগে।

পরে হাসপাতাল থেকে পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সমর্থকদের অভিবাদন জানানোর সময় ভিড় তার গাড়ির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং তার পা পিষে আহত হয়েছিল। তার বাঁ গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর হাড় ও লিগামেন্টের আঘাত এবং ডান কাঁধ, বাহু, ঘাড় ও কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। এরপর তাকে কলকাতায় ফিরিয়ে এনে সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১২ মার্চ বাঁ পায়ে প্লাস্টার বা কাস্ট নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তিনি হুইলচেয়ারে বসে তার প্রচার চালিয়ে যান। ওই নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৬টিতে জয়লাভ করে এবং বিজেপি পায় ৭৭টি আসন। 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে