পাকিস্তানের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘উদ্বেগের’: ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান

চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অর্জনের সম্ভাবনা ভারতের জন্য ‘উদ্বেগের কারণ’ হলেও এর মোকাবিলায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল একটি উন্নত যুদ্ধবিমানই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে না, বরং পুরো সামরিক ব্যবস্থার সাথে সেটির সঠিক সমন্বয়ই আসল বিষয়।

আগামী ৮ অক্টোবর বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এপি সিং বলেন, আমরা তথ্য পাচ্ছি যে পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অর্জন করতে চলেছে এবং তাদের পাইলটরা ইতোমধ্যেই চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সুতরাং, এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে পরিস্থিতি কি পুরোপুরি প্রতিকূল? আমি তা মনে করি না। আমাদের সক্ষমতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নির্ভর করে তা দেশের সামগ্রিক সামরিক ব্যবস্থার সাথে কতটা ভালোভাবে ইন্টিগ্রেট বা যুক্ত করা হয়েছে তার ওপর। ২০২৫ সালে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় পাকিস্তানের হাতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থাকলেও তারা ওই অভিযানে উল্লেখযোগ্য বা বিশেষ কিছু অর্জন করতে পারেনি।

বিমান বাহিনী প্রধান জানান, ভারতের বিদ্যমান এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমান হুমকি মোকাবিলায় কার্যকরভাবে সংযুক্ত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। যতদিন না পাকিস্তান তাদের সিস্টেমে নতুন বিমানগুলো পুরোপুরি যুক্ত করতে পারে, ততদিন আমাদের বর্তমান সক্ষমতা দিয়েই এই হুমকি প্রতিহত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তবে এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি দূরদর্শিতা ও সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এ সময় তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া নিয়ে চাপের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, আগামী বছরগুলোতে ভারতের প্রতি বছর অন্তত ৩৬ থেকে ৪২টি যুদ্ধবিমান প্রয়োজন এবং অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ‘আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে’। তবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড প্রতি বছর ২৪টির বেশি বিমান উৎপাদনের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং প্রস্তাবিত মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (এমআরএফএ) কর্মসূচি এই সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমআরএফএ কর্মসূচি সম্পর্কে ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান  বলেন, উভয় পক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও কাজ সম্পন্ন সাপেক্ষে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ফ্রান্সের সাথে সরকার-থেকে-সরকার কাঠামোতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল ভারত, যার দরকষাকষিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে