ভারতের দিল্লিতে একটি ভবনের ৪৩ তলা থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিল্লির কাছে নয়ডার সেক্টর ৯৪-এর সুপারনোভা কমপ্লেক্স নামক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম সম্ভাব জৈন, তিনি গুরুগ্রামের আইএমটি মানেসরের বাসিন্দা। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও উইয়ন নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
সুপারনোভা কমপ্লেক্সের একটি এয়ারবিএনবিতে অবস্থান করছিলেন সম্ভাব জৈন। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ অক্টোবর তিনি ৪২২৮ নম্বর রুমটি ভাড়া নেন এবং ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে সেখানে চেক-ইন করেছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জৈন পরে সুপারনোভা কমপ্লেক্সের স্পিরা টাওয়ারের ব্যালকনিতে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্য এক ব্যক্তি তাকে ওই পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং রেলিং থেকে টেনে সরানোর চেষ্টা করছেন। তবে জৈন কারও কথা শোনেননি এবং ৪৩ তলা থেকে নিচে পড়ে যান।
দ্য উইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৩ তলা থেকে পড়ার কারণে সম্ভাব জৈনের মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং মাটিতে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।
নিকটবর্তী একটি ফ্ল্যাটে এসি মেরামতের কাজ করছিলেন এমন কিছু কর্মীও ব্যালকনিতে সম্ভাব জৈনকে দেখতে পান। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছু সময় আগে ওই কর্মীদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিষণ্নতায় ভুগছি’।
ঘটনার সময় ফ্লোরে অন্য এক ব্যক্তিকেও দেখা গেছে, যিনি হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে মনে হচ্ছে। তবে ওই ব্যক্তি তার কাছে পৌঁছানোর আগেই জৈন নিচে পড়ে যান।
পুলিশ কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আর্থিক সংকটের কারণে জৈন এই চরম পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। ঘটনার আগে তার গতিবিধি জানতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই ফ্লোরের বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
৬৮ তলা বিশিষ্ট সুপারনোভা কমপ্লেক্সটি ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবন হিসেবে পরিচিত।
চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’, কবে অবতরণ?