ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে ওড়িশায় নিহতের সংখ্যা রবিবার বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১০ জন। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে প্রতিবেশী অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে ৩ নভেম্বর আঘাত হানতে পারে, এমন আরেকটি ঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ওড়িশা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
বিশেষ ত্রাণ কমিশনার (এসআরসি) রাজেশ পি পাতিল জানান, ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় অর্ণব এবং পরবর্তী বন্যায় ওড়িশায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৭৫ হাজার ৩৮৮ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৭২টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মুরাসু এগিয়ে আসায় দুটি ফ্রন্টে কাজ চলছে, অর্ণবে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও উদ্ধার এবং আসন্ন দুর্যোগের প্রস্তুতি। কর্মকর্তারা জানান, রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসে বিধ্বস্ত একটি গ্রাম থেকে রবিবার দুটি মরদেহ উদ্ধারের পর অর্ণবে নিহতের সংখ্যা ছয়ে পৌঁছায়। বাকি ১০ নিখোঁজের সন্ধান চলছে।
রাজস্ব বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে রাজ্য নতুন কৌশল নিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ওড়িশার এলাকাগুলোয় ৬ হাজার ৪০০-র বেশি কর্মী মোতায়েন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত করা হচ্ছে।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ঝড়টি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২ ও ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানবে। বাতাসের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
ভারতের দেওয়া নাম অনুযায়ী এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’, যার অর্থ যুদ্ধের ঢাক। ভুবনেশ্বরের আবহাওয়া কেন্দ্রের পরিচালক মনোরমা মোহান্তি জানান, ২ নভেম্বর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টি শুরু হবে। ৩ নভেম্বর তা বাড়বে এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী বলেন, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি মানুষকে আতঙ্কিত না হতে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, অর্ণবের জন্য করা ব্যবস্থা বহাল রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য তার যন্ত্রপাতি ও প্রস্তুতি উন্নত করেছে।
তিনি জানান, অর্ণবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত গঞ্জামসহ দক্ষিণাঞ্চলে ইতোমধ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুরাসু আঘাত হানার আগে নিচু এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চল থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে সরকার। দক্ষিণ ওড়িশার কয়েকটি জেলায় ৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।