ভেনেজুয়েলায় রুশ-মার্কিন আধিপত্যের লড়াইয়ে জিতবে কে?

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবৈধ ঘোষণা করে নিজেকে স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন বিরোধী রাজনীতিক হুয়ান গুইদো। বিক্ষোভকারীরা টানা কয়েক দিন ধরে রাজপথে অবস্থান করছেন। গুইদোকে যুক্তরাষ্ট্রসহ লাতিন আমেরিকার প্রায় ২০টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। বিপরীতে মাদুরোর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া, চীন, কিউবা ও তুরস্ক। মাদুরোকে উৎখাতের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মাদুরোবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় সেখানে জোরদার হচ্ছে রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্বও।

Capture

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের মুখে সংকটে থাকা দেশগুলোতে সেনাবাহিনী অনেক সময় নির্ধারক ভূমিকা পালন করে। তবে ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সেনাবাহিনীই সব সময় সংকটের সমাধান করে না। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি মিত্র বা মধ্যস্থতাকারীরা অবতীর্ণ হয়। এমনকি যখন সেনাবাহিনীই ফল নির্ধারণ করে তখন তাদেরও বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ প্রয়োজন হয়। যারা নতুন সরকারকে স্বাগত জানাবে ও বৈধতা দেবে।

২০১১ সালে যখন মিসরের প্রেসিডেন্টকে আর বৈধ নয় বলে ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র। তখন সেনাবাহিনী এটাকে ইঙ্গিত হিসেবে নিলো যে, তারা মার্কিনিদের ক্ষুব্ধ না করেই সরকারকে উৎখাত করতে পারবে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী চীনের অনুমোদন চেয়েছিল প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে উৎখাত করতে।

কিন্তু ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অন্যরকম। এখানে দুটি প্রভাবশালী দেশের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। এর ফলে ভেনেজুয়েলার যেকোনও নেতা বা গোষ্ঠীর আস্থা নেই যে, তারা আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করতে পারবে।

ভেনেজুয়েলায় স্বার্থ রয়েছে এমন পক্ষের একটিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ। তারা গুইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র কিউবা ও রাশিয়া। তারা মাদুরোকে সমর্থন দিচ্ছে।

maxresdefault

বিদেশি শক্তিগুলোর গুইদোকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে বড় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি যদি অভ্যুত্থান হয়ও তাহলে তাদের হয়ে ভেনেজুয়েলার নেতা নির্বাচন করা হিসেবে দেখা হবে।

কিন্তু বিদেশি সরকারগুলো সাধারণত ওই দেশের সেনাবাহিনী ও অভিজাত বেসামরিকদের এই ইঙ্গিত আগেই দিয়ে থাকে। তারা বুঝিয়ে দেয় যে, বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে তারা হতাশ এবং নতুন সরকারকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করবে। এটা দেশটির অভিজাত শ্রেণির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা নিশ্চিত হতে চায় যে, ক্ষমতার যেকোনও হস্তান্তর তাদের জন্য স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি বয়ে আনবে।

কিন্তু গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে দেশটিতে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদল ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিশ্চিত হয়নি।

রাশিয়া ও কিউবার সরকার মাদুরোর প্রতি ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তাদের বিরোধী অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার সরকারগুলো এই দুই দেশের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমন অবস্থান দেশটির কয়েকটি রাজনৈতিক শ্রেণির মধ্যেও বিদ্যমান। এছাড়া দেশ দুটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বিরোধ থাকায় ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা প্রশ্নে একমত হতে পারছে না। ফলে নিরপেক্ষ কোনও মধ্যস্থতাকারী পাচ্ছে না ভেনেজুয়েলা।