সিটগো থেকে মার্কিন নাগরিকদের অপসারণের সিদ্ধান্ত ভেনেজুয়েলার

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল উৎপাদন প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটগো পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদে থাকা অন্তত দুইজন মার্কিন সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ভেনেজুয়েলা। সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার এই অপসারণ পরিকল্পনায় মার্কিন নাগরিক ছাড়াও নাম রয়েছে বেশ কয়েকজন ভেনেজুয়েলান নাগরিকের এই সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে কি না তা নিশ্চিত নয়।s3.reutersmedia.net
সিটগো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে পিডিভিএসের ৪৯.৯ শতাংশ শেয়ার ছিল তাতে। বাকিটা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের। সিটগো পিডিভিএসের তেল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত রিফাইনারিতে পরিশোধন করত। ২০১৭ সালে দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো সেই শেয়ার বন্ধক রেখে রাশিয়ার কাছ থেকে ১৫০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিলেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করে মার্কিন ক্ষমতাচক্র।  ভেনেজুয়েলায় রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে তারা ওই ঋণের দায় নিজেরা নিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে বন্ধক থাকা শেয়ার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রাশিয়া দেয়নি।
ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোয়ান গোয়াইদোকে সমর্থন দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পাওনা অর্থ আটকে দেয় পিডিভিএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে। সেই অর্থ তারা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে হোয়ান গোয়াইদোর হাতে। এ উদ্দেশ্যে সিটগোর পরিচালনা পর্ষদে গোয়াইদোর সুপারিশে সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। এখন মাদুরো সরকার পাল্টা মার্কিন সদস্যদের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
ভেনেজুয়েলার যে দুই জন মার্কিন নাগরিককে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের একজন আর্ট ক্লেইন ও অপরজন রিক এসার। অন্যদিকে অপসারণের কথা ভাবা হচ্ছে যে ভেনেজুয়েলান নাগরিকদের তাদের মধ্যে রয়েছেন আসদ্রুবাল চ্যাভেজ, ফ্র্যাংক গিগাস, নিপমার এস্কালোনা, সিমন সুয়ারেজ এবং আলেজান্দ্রো এস্কারা। তবে এই অপসারণের সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেনেজুয়েলার নির্বাচন। তাতে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। কিন্তু বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদের এমন দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। অর্থনৈতিক সংকটে জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে।
আর ব্যাপক এই বিক্ষোভের জেরেই গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা হোয়ান গোয়াইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একে একে সমর্থন আসে যুক্তরাজ্য, কানাডা, এমন কি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পক্ষ থেকেও। অন্যদিকে মাদুরোর পক্ষে দাঁড়িয়েছে চীন ,রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশ।