মার্কিন হস্তক্ষেপ চাওয়ায় দণ্ডিত ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করার দায়ে ব্রাজিলের সাবেক উগ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে (৪১) কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত। গত বছর তার বাবার অভ্যুত্থান মামলার বিচার চলাকালে তিনি মার্কিন হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সাবেক এই ব্রাজিলীয় কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে গত বছর অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তিনি ব্রাজিলের ওপর শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তদবির করছিলেন, যেন তার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাবাকে সুবিধা দেওয়া যায়। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল শাসন করা জেইর বলসোনারো সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বাবা দণ্ডিত হওয়ার আগেই, ২০২৫ সালে এদুয়ার্দো যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট এদুয়ার্দোর অনুপস্থিতিতেই তাকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই রায়কে ‘ভিত্তিহীন ও অর্থহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এদুয়ার্দো। তার দাবি, তিনি যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্যই বিচারকরা এমনটা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই মামলায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তাকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেই তিনি প্রথম মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

এর আগে বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, ব্রাজিলে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘নির্বাসনে’ বসবাস করছেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তার বাবার জন্য জনসমক্ষে সমর্থন চেয়ে লবিং করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চলা এই মামলাকে উইচ হান্ট বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি হিসেবে তুলনা করেছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলসোনারোকে নিজের একজন মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন। বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে গত বছরের জুলাই মাসে ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা কেবল ভুলই নয়, বরং অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছিলেন।

পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অঙ্গীকার করেছিলেন যে বলসোনারোর এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নেবে। এর আগে গত বছরের ৩০ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বলসোনারো-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

লুলা সে সময় বলেছিলেন, ব্রাজিল বাণিজ্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি, তবে বিচারপতি মোরায়েসকে লক্ষ্য করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ। অবশ্য পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

২০২২ সালের নির্বাচনী পরাজয় উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের দায়ে জেইর বলসোনারো দণ্ডিত হন। বলসোনারোকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ ছিল এই ষড়যন্ত্র, যার জের ধরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তার সমর্থকরা ব্রাসিলিয়ার সরকারি ভবনগুলোতে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলা চালিয়েছিল।