এসওএইচআর জানায়, বুধবার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর শার এলাকা আল-বায়ান হাসপাতালের বাইরে বিমান হামলা চালায়। এতে ১০ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল এলাকা ছাড়াও বিমান হামলায় আরও ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বেশ কিছু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। একাধিক ভবনে আগুন জ্বলছে। কারা হামলা চালিয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এলাকা দখলমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে সিরিয়ার প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে নিজের এ প্রত্যয়ের কথা জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার ওই ভাষণ সিরিয়ার টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
বাশার আল আসাদ বলেন, আলেপ্পো বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোরস্তানে পরিণত হবে। সেখানকার আর কোনও ভূমি দখল করতে পারবে না দায়েশ (আইএস)।যেভাবে আমরা ইতোমধ্যে অনেক অঞ্চল মুক্ত করেছি; সেভাবেই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি তাদের (বিদ্রোহী ও আইএস) হাত থেকে মুক্ত করা হবে। জয়ই হচ্ছে আমাদের একমাত্র বিকল্প। অন্যথায় সিরিয়া থাকবে না।
আইএসের হাত থেকে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী কর্তৃক পালমিরা পুনর্দখলের কথাও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। ‘মরুর মুক্তা’ হিসেবে পরিচিত পালমিরা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ। পালমিরা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২০১৫ সালের মে মাসে পালমিরা দখল করে আইএস। তারা সেখানকার বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত মন্দিরসহ অনেক স্থাপনা ধ্বংস করে।
২০১১ সালের ১৫ মার্চ সিরিয়ায় শুরু হয়েছিল সরকার বিরোধী আন্দোলন। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এক পর্যায়ে রূপ নেয় গৃহযুদ্ধের। তবে এই গৃহযুদ্ধে সেখানকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এখন চাপা পড়ে গেছে আইএসের বর্বর নারকীয় কর্মকাণ্ডের নিচে।
পাঁচ বছর ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধে এখন দেশটির অনেক অংশ সরকারবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আর আইএসের দখলে। বর্বর সব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আইএস পুরো বিশ্বের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছে। এরই মধ্যে গোষ্ঠীটি বহু মানুষকে হত্যা করেছে। আরও যেসব বর্বরোচিত কাণ্ড ঘটিয়েছে, এরমধ্যে রয়েছে ‘অবিশ্বাসী’ ও ‘চর’ আখ্যা দিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা, সমকামীদের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা, লোকজনকে জিম্মি করে খাঁচায় ভরে নিয়ে যাওয়া, নারীদের দাসে পরিণত করা, জর্ডানের এক পাইলটকে পুড়িয়ে হত্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রাচীন ঐতিহাসিক সব শিল্পকর্ম ধ্বংস।
সম্প্রতি আইএসকে হটিয়ে দখল করা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে ইরাক ও সিরিয়া। ফালুজা পুনর্দখলে ইরাকি বাহিনী ও আইএসের রাজধানী বলে খ্যাত রাক্কা পুনর্দখলে সিরিয়ার সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন সমর্থিত এসডিএফও আইএসবিরোধী অভিযানে অংশ নিচ্ছে। ফলে ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে পড়েছে আইএস।
এ অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এসডিএফকে আকাশপথে অস্ত্র সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ আলেপ্পোর মারিয়া শহরে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এসওএইচআর এর কর্মকর্তা রামি আবদেল রহমান বলেন, মারিয়াতে বিদ্রোহীদের জোট বিমান থেকে গোলাবারুদ, হালকা অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র আকাশ থেকে ফেলা হয়েছে।
২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রধানত সিরিয়ার কুর্দি অঞ্চলের উত্তর-পূর্ব এলাকায় এসডিএফ গঠিত হয়। প্রধানত ওয়াইপিজি ও ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অন্তত ১৫ টি উপ-শাখার যোদ্ধাদের নিয়ে এসডিএফ গঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র আইএসবিরোধী লড়াইয়ে এই গ্রুপটিকে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে মনে করে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা।
/এএ/