ইরাক ও সিরিয়া সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা জর্ডানের

ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তে আত্মঘাতী বোমা হামলার জের ধরে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জর্ডান। সংশ্লিষ্ট সীমান্তকে সামরিক সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে শুত্রু হিসেবে গণ্য করে গুলি করা হবে।

মঙ্গলবার ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জর্ডানের ছয় সেনা নিহত হন। আহত হন অন্তত আরও ১৪ জন। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সিরীয় শরণার্থী শিবিরের বিপরীত দিকের রুকবান এলাকায় এ গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।  

বুধবার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এখন থেকে পূর্ব অনুমতি ছাড়া যে কোনও ধরনের যানবাহন অথবা মানুষকে সীমান্ত পথ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা গেলে তা হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে দেখামাত্রই শত্রু হিসেবে গুলি করা হবে।

সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে মঙ্গলবারের হামলাটি চালানো হলেও কারা এর পেছনে ছিল তা জানা যায়নি। শরণার্থী শিবিরের খুব কাছেই হামলার ঘটনাটি ঘটে।  

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর জর্ডান সীমান্তে এধরনের হামলা এটাই প্রথম। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জর্ডান।

এদিকে, নতুন করে আর শরণার্থী শিবির স্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে জর্ডান সরকার। এমনকি স্থাপিত কোনও শিবিরও আর সম্প্রসারণ করা হবে না।

সীমান্ত বন্ধের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সহায়তা হুমকির মুখে পড়বে।

গৃহযুদ্ধের ফলে সিরিয়া থেকে পালিয়ে আসা জনগণের বড় একটি অংশ জর্ডানে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে ৬ লাখের বেশি মানুষ এখন সীমান্তবর্তী শিবিরগুলোতে বাস করছেন। সূত্র: বিবিসি।

/এএ/