তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান

এরদোয়ানের কথা বলা আইফোনের জন্য ২ লাখ ৬৬ হাজার ডলার প্রস্তাব

অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় শনিবার সকালে এই আইফোনে ফেইসটাইম অ্যাপস ব্যবহার করে জাতির উদ্দেশে কথা বলেন এরদোয়ানঅভ্যুত্থান চেষ্টার সময় যে আইফোন ব্যবহার করে ফেইস টাইমে টেলিভিশনে কথা বলেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান তা কিনতে ২ লাখ ৬৬ হাজার ডলার দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আইফোনটির মালিক সিএনএন-তুরস্ক শাখার আঙ্কারা ব্যুরো চিফ হান্দে ফিরাত এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার সকালে আইফোনের ফেইসটাইমের মাধ্যমে সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকার দেন এরদোয়ান। সিএনএন তা সরাসরি সম্প্রচার করে।

তুরস্কের হুরিয়েত পত্রিকাকে ফিরাত বলেন, আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্যা বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এমনকি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমার আইফোনটি ক্রয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে এরদোয়ানের অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় যোগাযোগ করেন সে সম্পর্কে ফিরাত জানান, ফেইসটাইমে সরাসরি সম্প্রচারের আগে এরদোয়ানের ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে কথা দুবার কথা বলেছেন। ফিরাত বলেন, তিনি (এরদোয়ান) চাইছিলেন স্কাইপেতে কথা বলবেন কিন্তু তা আমার অন্য ফোনে ইন্সটল করা ছিল। তখন আমি বলি যে শুধু ফেইসটাইম ইন্সটল করা আছে আইফোনে। অনুরোধ করি, এটাতেই কথা বলতে।

ফিরাত আরও বলেন, যখন আমি দ্বিতীয়বার ফোন করি তখন তিনি পেরিস্কোপে কথা বলতে চান। আমি বলি এটা করা অর্থহীন হবে। আমি সরাসরি সম্প্রচারে আছি। আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দাও।

ফিরাত জানান, তার আইফোন ক্রয়ের জন্য একাধিক প্রস্তাব পেয়েছেন। এর মধ্যে আড়াই লাখ ডলারের বেশি দামে কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এখনও তিনি এসব প্রস্তাবের কোনও জবাব দেননি।

এক সৌদি ধনকুবের আবু রাকান টুইটারে এক পোস্টে আইফোনটির জন্য ২ লাখ ৬৬ হাজার ডলার দামের প্রস্তাব দিয়েছেন। সৌদি নাগরিক লিখেছেন,  এই আইফোনটি পুরো তুরস্ক জাতিকে বাঁচিয়েছে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করেছে।আমি তা ক্রয় করে সৌদি আরবের জাতীয় জাদুঘরে রাখতে চাই যাতে করে আরবের মানুষরা বিপ্লব ও যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে তারা। শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়। আর একে ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করে এরদোয়ান সরকার। ওই ঘটনার পর তুরস্কে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। এ ছাড়া বরখাস্ত করা হয়েছে বিভিন্ন খাতের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে। দ্বিতীয় সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় বুধবার তুরস্কে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো। সূত্র: মিডলইস্ট আই।

আরও পড়ুন:

/এএ/