জেনেভায় রুশ-মার্কিন বৈঠক: সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতির প্রত্যাশা

চীনে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে সিরিয়া প্রশ্নে কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে সিরিয়ার শান্তি আলোচনা নিয়ে যারা আশাবাদী ছিলেন তারা বেশ হতাশ হয়েছিলেন। তবে বুধবার জেনেভায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সিরিয়া প্রশ্নের ফের বৈঠকে বসছেন। এর ফলে ফের সিরিয়ার অস্ত্রবিরতি নিয়ে প্রত্যাশা শুরু হয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিয়া বিষয়ে একটি চুক্তির লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার ও কাল শুক্রবার জেনেভায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই ও শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে কাজ করার পর দুই শীর্ষ কূটনীতিক ‘ব্যক্তিগত বৈঠকে’ বসার ব্যাপারে টেলিফোনে সম্মত হয়েছেন।

সিরিয়ার অস্ত্রবিরতি পুনরায় কার্যকর করা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস)ও অন্যান্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালানোর ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে চলতি সপ্তাহে পুতিন ও ওবামা চীনে জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়া বিষয়ে সোমবার আলোচনা করলেও তাদের মতপার্থক্য দূর করতে ব্যর্থ হন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জানান, কোনও নির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই ওবামা ও পুতিনের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

জি২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ওবামা-পুতিন বৈঠক নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেন দুই প্রেসিডেন্টের আলোচ্য সূচিতে থাকার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ওবামা-পুতিন বৈঠকে সিরিয়া বিষয়ে চুক্তির ব্যাপারটি সামনে আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভরভের আলোচনার পর। জি২০ সম্মেলনের পূর্বে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক ও আলোচনায় সিরিয়া ইস্যুতে ঐক্যমতে পৌঁছার আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুই মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উভয় দেশই সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ হোক, এটাই চায়।

তবে সোমবার দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়াতে আশঙ্কা করা হচ্ছে সিরিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন সমঝোতা ভেস্তে যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ‘অনেক বিষয় মীমাংসার বাকি আছে’। ধারণা করা হচ্ছে, এইসব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করবেন।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রক্সি যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এএ/