শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিরিয়া সেনাবাহিনী আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বিদ্রোহী ও সরকার উভয়েই অস্ত্রবিরতির আগে হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চায়।
বিদ্রোহীদের একটি সংগঠন নৌর আল-দিন আল জিনকি ব্রিগেডের সামরিক মুখপাত্র ক্যাপ্টেন আব্দুল সালাম আব্দুল রাজাক বলেন, আলেপ্পোর দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই কমে আসছে কিন্তু আমিরিয়াহ অঞ্চলে লড়াই বাড়ছে।
শনিবার কয়েক বছর ধরে সিরিয়ায় চলে আসা সহিংসতা বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একমত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর জেনেভায় এ দুটি পক্ষ একমত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এ ঐক্যমতে পৌঁছানোর পর এক ঘোষণা দেওয়া হয়। সে ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং সিরিয়ার সরকারি বাহিনী হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। এ ছাড়া আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্ট প্রতিরোধে যৌথভাবে সেন্টার স্থাপন করবে। সেই সঙ্গে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনও ধরনের হামলা চালাবে না।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে আলোচনার পর এ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়।
আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সিরিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, আশা করি, সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেশটি এই ঐকমত্য মনে চলবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, সিরিয়ার সরকারকে এ ঐকমত্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। সিরিয়ার সরকার এ ঐকমত্য মেনে চলতে প্রস্তুত রয়েছে।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রক্সি যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন। সূত্র: রয়টার্স।
/এএ/