যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনে কলেরা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গত দশ সপ্তাহে এ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এই তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের দেওয়া তথ্যানুসারে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, কলেরা আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২৪ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, ইয়েমেন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ কলেরা সংক্রমণের মুখে রয়েছে। ওই সময় আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখের বেশি বলে জানানো হয়েছিল।
ফলে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আক্রান্ত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
রেড ক্রসের মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিচালক রবার্তো মারদিনি পরিস্থিতিকে ভয়াবহ আখ্যায়িত করেছেন।
কলেরা সংক্রমণের বাইরেও গৃহযুদ্ধকবলিত ইয়েমেনের প্রায় ১ কোটি শিশুর জন্য জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। ৬ জুলাই এক বিবৃতিতে সংস্থাটির ইয়েমেন কার্যালয় এ উদ্বেগের জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিসেফের ইয়েমেনের বেশিরভাগ শিশু মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পর্যাপ্ত পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানীয়, যথাযথ স্যানিটেশন এবং শিক্ষার অভাবে রয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি বলেছে, ১ কোটি ৭০ লাখ ইয়েমেনি জানে না পরবর্তী বেলার খাবার কিভাবে আসবে।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ ২০১৫ থেকে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদির কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে দেশজুড়ে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন মানসুর হাদি। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/