ইরাক ও সিরিয়ায় বন্দি আইএস যোদ্ধাদের কী হবে?

সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পরাজয়ের পর যেসব যোদ্ধাদের বন্দি করা হয়েছে তাদের পরিণতি কী হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন মত উঠে আসছে। পশ্চিমা রাজনীতিকসহ অনেকেই বন্দি আইএস যোদ্ধাদের মেরে ফেলার পক্ষে।  তবে আন্তর্জাতিক রেডক্রস বন্দিদের হত্যার বিষয়টি নাকচ করে  মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

_98622268__97629377_ea6030bb-97a7-4a2b-afbe-a77b1c2c6d67

ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন আইএস নিয়ন্ত্রিত শহরের পতন হওয়ার পর বহু যোদ্ধা বিজয়ী বাহিনীর হাতে থরা পড়ছে। মসুলের কাছে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১ হাজার ৩০০ নারী ও শিশুকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। যারা আইএসের বিদেশি যোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তান বলে মনে করা হচ্ছে। এরকম আরও অনেক নারী ও শিশু হয়তো আগামীতে ধরা পড়বে।  

অনুমান করা হয়, আইএসের প্রায় ৩০ হাজার বিদেশি যোদ্ধা রয়েছে। কিছুদিন আগেই ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমে বলা হয় আইএসে যোগ দেওয়া প্রায় ৮০০ ব্রিটিশ যোদ্ধার মধ্যে বেশ কয়েকশ' ইতোমধ্যে দেশে ফিরে এসেছে।

প্যারিস, লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোতে অনেকেই উদ্বিগ্ন যে খেলাফতের পতন হওয়ার পর বিদেশি আইএস যোদ্ধারা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেলে কী পরিস্থিতি হবে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করে যে মাত্র কয়েকশ' যোদ্ধাও যদি ইউরোপে ফিরে আসে সেটাও একটা বিরাট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।

কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জুনিয়র মন্ত্রী রোরি স্টুয়ার্ট বলেছেন, ‘যে সব ব্রিটিশ নাগরিক আইএসের হয়ে যুদ্ধ করেছে তারা আমাদের জন্য গভীর বিপদের কারণ। দুর্ভাগ্যবশত এদের মোকাবিলা করার উপায় বলতে গেলে একটাই - তাদের মেরে ফেলা।’

কয়েকদিন আগে ফরাসী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লিও বলেন, আইএস যোদ্ধারা যদি যুদ্ধে নিহত হলে সবচেয়ে ভালো হবে।

আইএসবিরোধী কোয়ালিশনে মার্কিন দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক বলেছেন, 'জোট এটা নিশ্চিত করতে চায় যেন এই সিরিয়ার মাটিতেই বিদেশি যোদ্ধারা মারা যায়।'

ইউরোপে অনেকেই হয়তো এসব যোদ্ধা- যাদের আদর্শের মধ্যে মেয়েদের ক্রীতদাসী করে রাখা, বন্ধীদের শিরশ্ছেদ করা বা জনতার ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার মত বিষয় আছে - তাদের সঙ্গে 'মানবিকতা' দেখানোর কিছু আছে বলে মনে করবেন না। কিন্তু রেডক্রস মনে করে,  যারা জেনেভা কনভেনশনের রক্ষক তারা বিষয়টিকে  এভাবে  বিবেচনা করছে না।

রেডক্রসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপপরিচালক প্যাট্রিক হ্যামিল্টন মনে করেন বন্দি আইএস যোদ্ধাদের মেরে ফেলার দাবি  মানবিকতা-বর্জিত কথাবার্তা। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আইএস যোদ্ধারা আমাদের সার্বজনীন মানবতার আওতার বাইরে এটা মনে করা চলে না।’  তিনি স্বীকার করেন যে, মসুল বা রাক্কার মতো শহরে আইএসের শাসনকালে এবং তা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের সময়ও বেসামরিক নাগরিকরা ভয়াবহ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।

হ্যামিল্টন মনে করেন, কেউ নজিরবিহীন অপরাধ করেছে বলেই তাকে আইনের আওতার বাইরে বলে মনে করা চলে না। কোন যোদ্ধা ধরা পড়লে এবং সে কোন অপরাধ করে থাকলে স্বাভাবিক আইনের মাধ্যমেই তার বিচার হওয়া উচিত। সূত্র: বিবিসি বাংলা