ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪৮, আহত সহস্রাধিক

ইরাক-ইরান সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জন। ভয়াবহ ৭ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও সহস্রাধিক। ইরানের একটি ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ হাজার মানুষের জন্য আশ্রয় প্রয়োজন।

_98724480_17a5b4c5-567a-4c06-8105-62d862bc0eef

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে। এখানে ৫ হাজার ৬৬০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আর ইরাকে অন্তত ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তিন সন্তানের জননী মাজিদা আমির বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সন্তানদের নিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। মনে হচ্ছিল ভবনটি বাতাসে নাচছে। প্রথমে আমি মনে করেছিলাম বড় কোনও বোমার বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে শুনলাম চারপাশের সবাই ভূমিকম্প বলে চিৎকার করছে।

বিবিসির খবরে আরও বলা হয়েছে, কুর্দি পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক বাড়ি মাটি দিয়ে তৈরি। ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্পে বাড়িগুলো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে তাকে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত হচ্ছে।

ইরানের স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টার দিকে এই ভূমিকম্প শুরু হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। এর মূলকেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩.৯ কিলোমিটার গভীরে। ওই অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, কুর্দি সরকার-শাসিত সুলাইমানিয়া শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে হালাবজার কাছে ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।