ইউরোপ হুমকি দিলে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াবে ইরান

ইউরোপ হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের সক্ষমতা দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি বাড়াবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। দেশটির রেভ্যুলিউশনারি গার্ডের সহকারী প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি এ কথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালেমি

ইরানি বার্তা সংস্থা পারস নিউজের খবরে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে করা চুক্তির বাইরে গিয়ে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ব্যাপারে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে ফ্রান্স। যদিও ইরান বার বার বলে আসছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম প্রতিরক্ষামূলক ও সমঝোতার উপযোগী নয়।

হোসেইন সালামি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা দুই হাজার কিলোমিটারের কম করে রাখিনি। আমরা আদর্শিক মতবাদ মেনে চলছি। ইউরোপ আমাদের জন্য হুমকি না হলে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াবো না। কিন্তু যদি হুমকি হয়ে ওঠে তাহলে তা বাড়ানো হবে।’

গত মাসে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফারি বলেছিলেন, ইরানের দুই হাজার কিলোমিটার সক্ষমতার ক্ষেপণাস্ত্র এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব স্বার্থ ও বাহিনীকে আঘাত করতে সক্ষম। তাই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আর বাড়ানোর দরকার নেই। জাফারি জানান, ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্রা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির কথা মতো নির্ধারণ করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমগুলোর একটি চালায় ইরান। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে আঘাত করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, ইরান ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র সররবাহ করছে। তবে ইরান সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এ ব্যাপারে সালামি বলেন, ‘ইয়েমেন পুরোপুরি অবরুদ্ধ। আমরা তাদের কিভাবে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবো? যদি ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারত তাহলে সৌদি আরব তা প্রতিহত করতে পারতো না।’ তিনি দাবি করেন, হুথিরা বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে পেরেছে। ইরান শুধু তাদের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সমর্থন করে।