‘সৌদি আরবের শান্তি পরিকল্পনা ইসরায়েল ঘেঁষা’

সৌদি আরব যে শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে তা ‘ইসরায়েল ঘেঁষা’ বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনিরা। নভেম্বরে আকস্মিক সৌদি আরব সফরে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে এই শান্তি পরিকল্পনা তুলে ধরেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি যুবরাজ ও মাহমুদ আব্বাসের বৈঠকের কথোপকথনের সূত্র ধরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও সৌদি বাদশা সালমান

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি পরিকল্পনারই অংশবিশেষ। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ, সৌদি সরকার এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ওই পরিকল্পনাটির খবর অস্বীকার করা হয়েছে। এমনকি আব্বাসের মুখপাত্রও এই খবরকে ভুয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

হোয়াইট হাউসের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিকল্পনার একটি সমন্বিত খসড়া তৈরি হতে আরও কয়েক মাস লেগে যাবে।  

খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের নেতারা মনে করেন মার্কিন প্রশাসন স্বীকৃত পূর্ববর্তী যেকোনও পরিকল্পনার তুলনায় এটি অনেক বেশি ইসরায়েল-বান্ধব।

আব্বাস ও সৌদি যুবরাজের কথোপকথন শুনেছেন এমন এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সৌদি আরব আব্বাসকে এমন একটি পরিকল্পনা দিয়েছে যা কোনও ফিলিস্তিনি নেতা গ্রহণ করতে পারেন না। 

গত মাসে মাহমুদ আব্বাসের সৌদি আরব সফরের সময় যুবরাজ সালমান শান্তি পরিকল্পনাটি হস্তান্তর করেন। ওই পরিকল্পনায় ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা না রেখে এবং জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি না দিয়ে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা আছে।

শান্তি প্রস্তাবে আরও আছে- পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্ব, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ফেরার অধিকার না রাখা, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা না করা, এবং পশ্চিম তীরে বেশিরভাগ ইহুদি বসতি রেখে দেওয়ার বিধান।

পশ্চিম তীরের জ্যেষ্ঠ হামাস নেতা হাসান ইউসেফ বলেন, যদি ফিলিস্তিনের নেতৃত্ব এই প্রস্তাবের কোনও একটিও গ্রহণ করেন তাহলে মানুষ তাদের এখানে থাকতে দেবে না।