সিরিয়ায় ইরানি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ যেকোনও সময়: ইসরায়েল

ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে সিরিয়ায় ইরানি সেনাদের সঙ্গে যেকোনও সময় পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রন ডেরমার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো’র বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি দূত রন ডেরমার

পলিকো’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সিরিয়ায় ইরানি সেনাদের উপস্থিতি ইসরায়েল মেনে নেবে না বলে জানান রন ডেরমার। তিনি বলেন, ‘ইরান সিরিয়া থেকে সেনাদের গুটিয়ে না নিলে সেখানে সংঘাতের আশঙ্কা খুব বেশি। এটা হতে এক বছর লাগবে, না এক মাস লাগবে তা বলতে পারছি না। এটা এক সপ্তাহের মধ্যেও হতে পারে।’

সিরিয়ায় উত্তেজনার বাড়ার জন্য ইরানকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘তারা যত চাপবে আমাদেরও ততই সীমান্তে জোর দিতে হবে। আপনি সবসময় সেখানে এক ধরনের উসকানি দেখতে পাবেন। যদিও সেখানকার দলগুলোই উসকানি চায় না। তাই আমরা ইরানের প্রভাব বাড়ার মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরেকটি সন্ত্রাসকে মেনে নেব না।’

যুদ্ধের আশঙ্কা কতখানি জানতে চাইলে ডেরমার বলেন, ‘এটা শতকরা হিসাবে ফেলতে চাই না। তবে মানুষ যতখানি ভাবছে তার চেয়ে বেশি। লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা দুই বছর আগে যা ছিল তার চেয়ে এখন বেশি।’ আর সিরিয়ায় এ আশঙ্কা নিঃসন্দেহে আরও বেশি বলে জানান তিনি।

ডেরমার বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিরিয়ায় আসাদ ইরানি সাম্রাজ্যের একজন জমিদার। আর বাহিনীগুলো শিয়া মিলিশিয়া ও হিজবুল্লাহ।’ তবে সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়ার উপস্থিতিতে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলেও জানান ডেরমার।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরানের সমর্থনের পাশাপাশি রাশিয়ার বিমান হামলা ও সরঞ্জাম পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে নিয়ে আসে। এতে তেহরান থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ইরানের একটি করিডোরের সম্ভাব্যতা তৈরি হয়। যা অনেক সুন্নি রাষ্ট্রের মতে, আরব মধ্যপ্রাচ্যে পারসিয়ানদের অনুপ্রবেশ। এ কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্রতা পেয়েছে; যা একইসঙ্গে কৌশলগত ও ধর্মীয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইসরায়েল ইরানকে সব সময় হুমকি মনে করে। তাদের আশঙ্কা যেকোনও সময় ইরান তাদের উপর হামলা চালাতে পারে। তাই সিরিয়ায় ইরানি সেনাদের উপস্থিতি ইসরায়েলের জন্য মাথাব্যাথার কারণ।