ইয়েমেনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করেছে সৌদি জোট

ইয়েমেনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অবরোধ তুলে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের পরও তা অব্যাহত রেখেছে সৌদি জোট।

2010_9-21-fuel-shipping5262642373_995e836b97_o

ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের ভ্যারিফিকেশন অ্যান্ড ইনস্পেকশন মেকানিজম-এর মুখপাত্র জানান, সৌদি জোট হুদাইদাহ বন্দরে জাহাজ ভিড়তে দিচ্ছে না। জোটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু খাবার অগ্রাধিকার পাবে।

নভেম্বরের শুরুতে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জের ধরে সৌদি জোট ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আকাশ, স্থল ও সাগরপথে অবরোধ আরোপ করে। প্রায় তিন সপ্তাহ এই অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হয়। জোট নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত মাসে সৌদি আরব হুদাইদাহ বন্দরে ত্রাণবাহী কয়েকটি জাহাজ প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু তেলবাহী ছয়টি ট্যাংকারকে তেল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুথি ও সালেহ জোট রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরব নির্বাসনে যান। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হাদির সমর্থনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন ত্রান সংস্থার মতে, দেশটিতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। কলেরা ও ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। দ্য নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) বলছে, হুদাইদাহ ও সালিফ বন্দরে প্রথম দফায় খাদ্য ও জ্বালানি পৌঁছালেও যে পরিমাণ সহায়তা দরকার সেই তুলনায় তা খুবই সামান্য। কারণ, ২ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইয়েমেন প্রায় সম্পূর্ণভাবে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ওপর নির্ভরশীল।  সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।