পশ্চিমা ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ রুখতে ইরানে প্রাথমিক স্কুলে নিষিদ্ধ ইংরেজি

দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর প্রাথমিক স্কুলে ইংরেজি ভাষা পড়ানো নিষিদ্ধ করেছে ইরান। ৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ২১ জন নিহতের ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ইরান এই ঘোষণা দিলো। তবে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ইংরেজি চালু থাকবে।

ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে পতাকা হাতে ইরানিরা

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে উচ্চ শিক্ষা কাউন্সিলের প্রধান মেহদি নাভিদ-আধাম বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের আনুষ্ঠানিক পাঠ্য তালিকায় ইংরেজি শিক্ষা রাখা আইন ও নিয়মবিরোধী।’ তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ইরানি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শেখানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আল খামেনি কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, অল্প বয়সে ইংরেজি ভাষা শেখানোর ফলে পশ্চিমা মূল্যবোধ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানোর পথ পেয়ে যায়। সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

খামেনি প্রায়ই ইরানে পশ্চিমা প্রভাবের সমালোচনা করে আসছেন। ২০১৬ সালে তিনি প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

২৮ ডিসেম্বর ইরানে প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সূচনা হলেও পরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তেহরানসহ অন্যান্য শহরে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো উত্তাল স্লোগান উঠেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ঘুষ-দুর্নীতি কিংবা হুথি-হিজবুল্লাহ-ফিলিস্তিনকে সমর্থনের বিরুদ্ধে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ফারাকের কারণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিই হয়ে উঠেছেন ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার।