বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘ সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ বিন দাঘার অভিযোগ করেছেন, দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সরকারের অন্তবর্তীকালীন রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর অ্যাডেন দখলের জন্য অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছে। এতে তিনজন বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর অ্যাডেনে সংঘর্ষ চলছে

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের যুদ্ধরত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন, এই অভ্যুত্থান ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করার জন্য। নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট আবেদরাব্বু মনসুর হাদির সমর্থক সেনাদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কয়েকঘণ্টা যুদ্ধের পর এই আহ্বান জানালেন বিন দাঘার।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, তিন বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৫জন নিহত হয়েছেন উভয় পক্ষের সংঘর্ষে। নিহতদের সরকার সমর্থিত বাহিনীর চারজন রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। অ্যাডেনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।

এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈধ সরকার ও দেশের একতার বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলছে। তারা সামরিকভাবেই এগুচ্ছে, নতুন সামরিক চেকপয়েন্ট বসাচ্ছে এবং বৈধ সরকারের ফাঁড়িগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এটা গুরত্বপূর্ণ বিষয় এবং জোট ও আরবদের পরিস্থিতি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। আমরা যেমন দেখছি তাতে বিষয়টি আমিরাতের (সংযুক্ত আরব) হাতেই।

নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) বলে পরিচিত। তাদের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

উল্লেখ্য, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে নির্বাসনে পাঠায়। এরপর ২৬ মার্চ ২০১৫ থেকে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদির কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়।  জাতিসংঘের হিসাবে,  ইয়েমেনে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পাঁচ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এদের অর্ধেকই বেসামরিক নাগরিক। ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।