ফিলিস্তিনে মার্কিন সহযোগিতা কমানোর প্রতিবাদে জাতিসংঘ কর্মীদের ধর্মঘট

ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দকৃত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা তহবিল কমানোর প্রতিবাদে গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘ কর্মীরা ধর্মঘট পালন করছেন। তাদের ডাকা ধর্মঘটে স্কুল, ক্লিনিক ও খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। এতে সংস্থাটির প্রায় ১৩ হাজার কর্মী অংশ নেন। সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমানোর প্রতিবাদে গাজায় কর্মরত জাতিসংঘ কর্মীদের প্রতিবাদ

খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের ত্রাণ ও কল্যাণ সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র বরাদ্দ কমিয়ে ফেলার প্রতিবাদের এই ধর্মঘট ডেকেছিলেন তারা। সংস্থাটি গাজায় ২৭৮টি স্কুল পরিচালনা করে। এতে প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় পরিচালিত হয় সংস্থাটি। আর এতে সবচেয়ে বড় অনুদান দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ১৬ জানুয়ারি এক ঘোষণায় ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তারা বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে সাড়ে ছয় কোটি ডলার কম দেবে। সংস্থাটির সংস্কারও দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ধর্মঘট ডাকে ফিলিস্তিনে কাজ করা সংস্থাটি। ধর্মঘটে অংশ নিয়ে জাতিসংঘের কর্মীরা জানান, এমনিতেই পরিস্থিতি খারাপ। সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়ার ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তারা গাজায় অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতর অভিমুখে ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিল করেন। তাদের হাতে ব্যানার ছিলো যেখানে লেখা ছিল, ‘ডিগনিটি ইজ প্রাইসলেস (সম্মান অমূল্য)’

আহমেদ আবু সুলায়মান নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘আমার পরিবারের ৯ জন সদস্য। আমি শঙ্কিত যে, আমার চাকরি থাকবে না। সবাই এই সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রভাবিত হবে।’

জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার মুখপাত্র আবু হাসনা বলেন, তাদের কাছে সর্বোচ্চ তিনমাস কার্যক্রম চালানোর অর্থ আছে। আমরা তাদের চাকরি নিয়ে শঙ্কার বিষয়টা বুঝতে পারি।

গাজার ২০ লাখ মানুষের বেশিরভাগই জাতিসংঘের সহযোগিতা ওপর নির্ভরশীল। সেখানে বেকারত্বের হার ৪৬ শতাংশ।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার পর সারাবিশ্বে সমালোচনার ঝড় ওঠে।  এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে ফিলিস্তিনি জনগণ। প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। ফিলিস্তিন জানায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও শান্তি আলোচনায় দেশটি অংশ নেবে না।