সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ঘৌটায় চালানো সবচেয়ে বড় রাসায়নিক অস্ত্র সারিন গ্যাস হামলার সঙ্গে সিরীয় সরকারের অস্ত্র মজুদের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানাগারে পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করে কূটনীতিক ও বিজ্ঞানীরা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন। এর ফলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার বাহিনী বিদ্রোহীদের দমনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসতা চালানোর যে অভিযোগ পশ্চিমারা করে আসছে সেটাই আরও জোরালো হয়েছে।
২০১৩ সালের ২১ আগস্ট দামেস্কর উপকণ্ঠ ঘৌটায় সারিন গ্যাস ব্যবহার করে রাসায়নিক হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে কয়েকশ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জাতিসংঘের মিশন। পরে তা বিজ্ঞানাগারে পরীক্ষা করে অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপন্স (ওপিসিডব্লিউ)।
পরীক্ষাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটির পরীক্ষায় ঘৌটার নমুনার সঙ্গে আরও দুটি রাসায়নিক হামলার মিল পাওয়া গেছে। ওই দুটি হামলার মধ্যে একটি ইদলিবের খান শেইখুন এলাকায় ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল এবং অপরটি ২০১৩ সালের মার্চে আলেপ্পোর খান আল-আসাল এলাকায় চালানো হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, আমরা খান শেইখুন, খান আল-আসাল ও ঘৌটার নমুনার তুলনা করেছি। এই তিনটি হামলার মিল পাওয়া গেছে।
গত বছর অক্টোবরে একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল ওপিসিডব্লিউ ও জাতিসংঘের যৌথ অনুসন্ধানে। তখন সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে খান শেইখুন হামলার অভিযোগ আনা হয়। এখানে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল রাসায়নিক হামলায়।
ঘৌটায় রাসায়নিক হামলার অনুসন্ধানে পাওয়া বিস্তারিত তথ্য দুটি পৃথক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয় তাতে এই হামলার তথ্য অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। কারণ ওই যৌথ তদন্ত টিমের দায়িত্বে এই হামলা ছিল না।
ওপিসিডব্লিউ’র পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফল জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করে আসছে সেটা আরও জোরালো হলো। তাদের দাবি, আসাদ সরকারের কাছে এখনও রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রাসায়নিক অস্ত্র ও রাসায়নিক অস্ত্রবিষয়ক কনভেনশনের নীতি লঙ্ঘন করছে।
সিরিয়ার রাসায়নিক হামলার বিষয়ে বিজ্ঞানাগারে পাওয়া ফলাফলের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওপিসিডব্লিউ। গৃহযুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সিরীয় সরকার। আসাদ সরকারের দাবি, ঘৌটায় যে রাসায়নিক হামলা হয়েছে তা বিদ্রোহীরাই করেছে।
আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও রাসায়নিক হামলায় সিরিয়ার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছে। দেশটির পক্ষ থেকে ওপিসিডব্লিউয়ের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মস্কোর কর্মকর্তারা জানান, আসাদ সরকারকে বেকায়দায় ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ফেলতেই বিদ্রোহীরা রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
২০১৩ সালে ঘৌটায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার চুক্তির আওতায় আসাদ সরকার ওপিসিডব্লিউয়ে যোগ দেয় এবং রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বাতিল করতে সম্মত হয়। এর মধ্যে ছিল ১ হাজার ৩০০ টন সারিন গ্যাস ধ্বংস করা। যে মজুদের সঙ্গে ঘৌটায় হামলার যোগসূত্র পেয়েছে ওপিসিডব্লিউ। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তারা সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলেও প্রমাণ পেয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি সাপেক্ষে ক্লোরিন ব্যারেল বোমা ও সারিন গ্যাসের পরিকল্পিত ব্যবহার হচ্ছে অভিযোগ তাদের।