মঙ্গলবারে ইরাকের পার্লামেন্টে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। শিয়াদের রাজনৈতিক দল এ প্রস্তাব উত্থাপন করলেও বেশিরভাগ সদস্যের ভোট পেয়েছে প্রস্তাবটি। একই সঙ্গে আইএস তাড়াতে বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েও প্রস্তাব পাস করা হয়েছে ইরাকের সংসদে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শত্রুতা ছাড়াও এ ঘটনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। দেশটিতে আগামী মে মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ খবর।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সেনা ও কুর্দি সংগঠনের যোদ্ধাদের নিয়ে ইরাকি বাহিনী ইসলামিক স্টেটকে পর্যদুস্ত করতে পেরেছিল। তাদের যৌথ প্রচেষ্টার কারণেই ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাক জুড়ে ‘খিলফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া আইএসকে উৎখাত করে কোণঠাসা করা সম্ভব হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি গত ডিসেম্বরে আইএসের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে বিজয় লাভের ঘোষণা দেন।
সংসদ সদস্য হুসাম আল-সুহেইল রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার জন্য একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের কাছে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। তাদের কতদিন এখানে থাকা দরকার তা নির্ধারণ করবে সরকার—এক বছর বা দুই বছর যা-ই হোক না কেন, তা সরকারকে নির্ধারণ করে দিতে হবে।’ ১৭৭ সদস্যের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া সবাই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদে ওই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল সরকার দলীয় জোটে থাকা শিয়াদের সংগঠন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ ইউনিস বলেছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে ইরান সমর্থিত শিয়াদের এমন প্রস্তাব উত্থাপনের অর্থ একাটাই। আর সেটা হলো, ইরান চায় না যুক্তরাষ্ট্র অনির্ধারিতকালের জন্য ইরাকে তার সেনা রাখুক। তাদের দুই দিক থেকেই লাভ। একদিকে তারা প্রেসিডেন্ট আবাদির ওপর চাপ তৈরি করল এবং অন্যদিকে নির্বাচনের আগে কিছু জনপ্রিয়তা পাওয়ারও চেষ্টা করল। উল্লেখ্য, মে মাসে ইরাকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কর্নেল রায়ান ডিলন রয়টার্সকে বলেছেন, ইরাকে অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা থাকার বিষয়টি বিভিন্ন শর্ত, প্রয়োজন ও সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ১ লাখ ২৫ হাজার ইরাকি সেনাসদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদের মধ্যে ২২ হাজার জন কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা। আইএসের দখল থেকে এরাই ইরাকের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।
আইএস মুক্ত ইরাকের রাজনীতিতে বড় হয়ে উঠছে দেশটিতে থাকা বিদেশি সেনারা। যুক্তরাষ্ট্র যেমন ইরাকের বন্ধু তেমন ইরানও। ইরান সমর্থিত শিয়ারা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক তিক্ত। এখন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী জন্য এই দুপক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই জরুরি।